Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

শাহের গান্ধীনগরে দূষিত জল পান করে টাইফয়েডে আক্রান্ত শতাধিক, বেঙ্গালুরুতে জলাধারে মিশছে বর্জ্য, আতঙ্ক

ইন্দোরে দূষিত জল পান করে ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য গুজরাতেও জলবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির খবর মিলল।

শাহের গান্ধীনগরে দূষিত জল পান  করে টাইফয়েডে আক্রান্ত শতাধিক, বেঙ্গালুরুতে জলাধারে মিশছে বর্জ্য, আতঙ্ক
  • ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

গান্ধীনগর: ইন্দোরে দূষিত জল পান করে ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য গুজরাতেও জলবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির খবর মিলল। গুজরাতের রাজধানী গান্ধীনগরে গত পাঁচদিনে একশোর বেশি মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছে। গান্ধীনগরের সিভিল হাসপাতালেই ১০৪ জনের চিকিত্সা চলছে। তাদের মধ্যে অনেকেই শিশু। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর হাসপাতালে চিকিত্সকরা মনে করছেন, পানীয় জল থেকেই টাইফয়েড ছড়িয়ে পড়েছে। আর এই কথা জানাজানি হতেই তড়িঘড়ি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন গান্ধীনগরের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সব রকম পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু, প্রশ্ন উঠছে, ‘ডবল ইঞ্জিন’ রাজ্যের বিভিন্ন শহর নিয়ে বারবারই প্রচার করে থাকেন বিজেপি নেতারা। অথচ পরপর দু’টি শহরে পানীয় জল থেকে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায়, সেই প্রচারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Advertisement

গান্ধীনগর এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কিছুদিন ধরেই টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগীর খোঁজ মিলছিল। কিন্তু গত কয়েকদিনে সেই সংখ্যাটা হঠাত্ করেই বেড়ে গিয়েছে। এর মধ্যে গত তিনদিনে আক্রান্তের সংখ্যা এক ধাক্কায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। গুজরাতের উপমুখ্যমন্ত্রী হরিশ সাংভি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শনিবার হাসপাতালে যান। সেখানে রোগী ও তাঁদের পরিজনের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে ১০৪ জন রোগী ওই হাসপাতালে ভর্তি। তাঁদের চিকিত্সার জন্য ২২ জন চিকিত্সকের একটি টিম তৈরি করা হয়েছে। সরকারের তরফে রোগীর পরিজনের জন্য খাবার ও থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাংভি। সিভিল হাসপাতালে সুপার ডাঃ মিতা পারিখ জানিয়েছেন, ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। যে সব এলাকায় টাইফয়েড আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে, সেখানকার জল পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, তা পান করার অনুপযুক্ত। গান্ধীনগর পুরনিগমের স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মীরা জল দূষণের উত্স খুঁজে বের করতে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা শুরু করেছেন। এছাড়া জলের ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের জন্য ক্লোরিন ট্যাবলেটও বিলি করা হচ্ছে। আপাতত সকলকে জল ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বেঙ্গালুরুতে পানীয় জলের সঙ্গে নিকাশি নালার জল মিশে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শহরের লিঙ্গরাজাপুরম এলাকায় ৩০ থেকে ৪০টি বাড়ির বাসিন্দারা এক সপ্তাহ ধরে পুরসভার সরবরাহ করা জলের পরিবর্তে জল কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন। ওই এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কয়েক মাস ধরেই নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছিলেন। কয়েকজনকে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়। প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন, খাদ্যে বিষক্রিয়া বা আবহাওয়া বদলের জন্য অসুস্থ হচ্ছেন। কিন্তু এই সপ্তাহে দেখা যায়, যে জল সরবরাহ করা হয়েছে, তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বাসিন্দারা ভূগর্ভস্থ জলাধারগুলি পরীক্ষা করেন। এক বাসিন্দা জানান, ওই জলাধারগুলি বর্জ্যে ভর্তি। সেখান থেকেও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বারবার অভিযোগ জানানোর পর অবশেষে শুক্র ও শনিবার এলাকা পরিদর্শনে আসে বেঙ্গালুরু ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড সুয়ারেজ বোর্ড। জলাধারগুলিতে যে নর্দমার জল মিশছে, তা মেনে নিয়েছেন বোর্ডের আধিকারিকরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ