সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের সময়সীমায় পারিবারিক ঋণের হার মোট ঋণের মধ্যে গড়ে ৩৮ শতাংশ ছিল। কমবেশি এই হারই বজায় ছিল লাগাতার। কিন্তু ২০২৫ সালে সেই ঋণ গ্রহণ প্রবণতা এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে গিয়েছে। জিডিপির নিরিখে ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। এরমধ্যে ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে পারিবারিক ঋণ নেওয়ার হার। ভোগ্যপণ্য ক্রয় থেকে ঘরবাড়ি মেরামতি, এমনকী পুরনো ঋণ মেটাতে নতুন ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বাড়ছে অবিরত। সবথেকে উদ্বেগজনক প্রবণতা হল পার্সোনাল লোন বৃদ্ধি। আর এই ঋণ পরিশোধ করার ক্ষমতা না থাকায় সুদের পাহাড় জমছে। সব মিলিয়ে হঠাৎ বিগত এক বছরে পারিবারিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ফিনান্সিয়াল স্টেবিলিটি রিপোর্টে এই প্রবণতার কথা বলা হয়েছে। ভারতের মোট লোনের ৪২ শতাংশই পারিবারিক লোন হওয়ার মধ্যে দিয়ে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সেটি হল, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এই পারিবারিক ঋণের পরিমাণ ২৫ লক্ষ কোটি টাকা স্পর্শ করতে চলেছে। ২০২৪ সালেও যা ছিল ১৮ লক্ষ কোটি টাকা।
২০১৫ সালে পারিবারিক ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র সাড়ে ৩ লক্ষ কোটি টাকা। ১০ বছরের মধ্যে সেটি পৌঁছে গিয়েছে ১৮ লক্ষ কোটি টাকায়। আবার বিগত ২ বছর ধরে আরও দ্রুত বাড়ছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পারিবারিক লোনের মধ্যে ২২ শতাংশ পার্সোনাল লোন। কিছু বছর আগে পর্যন্ত বাড়ি ফ্ল্যাট ক্রয় কিংবা মেরামতির জন্য ঋণ নেওয়ার প্রবণতাই ছিল সবথেকে বেশি। অর্থাৎ পরিবারগুলি যত লোন নিয়েছে তার সিংহভাগ ঘরবাড়ি সংক্রান্ত। এখন সেই প্রবণতা বদলে গিয়েছে। মোট ঋণের ২৮ শতাংশ মাত্র গৃহঋণ। ৫৩ শতাংশ ঋণ পণ্যক্রয়ের জন্য। ১৬ শতাংশ কৃষি ও ব্যবসা করার লোন। এই যে লোন নিয়ে পণ্য ক্রয়ের প্রবণতা বিপুল আকার ধারণ করেছে, এর মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ হল অন্য একটি পরিসংখ্যান। সেটি হল, বেশ কিছু বছর পর আবার পারিবারিক সঞ্চয়ের পরিমাণ বিগত এক বছরে
সামান্য হলেও বাড়ছে। কারণ সাশ্রয় হওয়া অথবা উদ্বৃত্ত টাকা খরচ করে মধ্যবিত্ত যতটা না পণ্য ক্রয় করছে, সেই তুলনায় লোন নিচ্ছে বেশি। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক মনে করছে এর কারণ আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ গৃহস্থের একটি সংশয় কাজ করছে। অর্থাৎ জীবিকা, পেশা অথবা আয়ের উৎস যদি একইরকম না থাকে? তখন কী হবে? তাই টাকা জমিয়ে রাখা যাক। জমা টাকা খরচ করে সঞ্চয় শূন্য করতে রাজি নয় কেউ। ২০১৮ সালের আগে মানুষের মধ্যে একটি প্রবণতা দেখা গিয়েছিল উদ্বৃত্ত অর্থ লগ্নি করা। অর্থাৎ নিজের বসবাসের জন্য না হলেও একটি ছোট ফ্ল্যাট কিনে ফেলেছে মানুষ ইনভেস্টমেন্টের জন্য। কিন্তু মোদি সরকারে আমলে ইনভেস্টমেন্ট করে মুনাফার পরিমাণ কমেছে। তাই ২০১৫ সালের পর থেকে ক্রমেই সেই ফ্ল্যাট কেনার প্রবণতা কমেছে। আর তাই রাজ্যে রাজ্যে অবিক্রিত ফ্ল্যাট আকাশছোঁয়া।