সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শিশুদের কৃমির চিকিৎসায় কার্যকরী ভূমিকা নিতে চলেছে হোমিয়োপ্যাথি। স্বল্পমূল্যে, পার্শপ্রতিক্রিয়াহীন এবং নাগালের মধ্যে হোমিয়োপ্যাথি ওষুধ শিশুদের কৃমির আক্রমণ থেকে রেহাই দেবে। এমনটাই দাবি শিলিগুড়ির রিজিওনাল রিসার্চ ইনস্টিটিইউট অব হোমিয়োপ্যাথির গবেষকদের।
শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের অদূরে এই হোমিয়োপ্যাথি গবেষণা কেন্দ্রটি। কেন্দ্রের অধিকর্তা ডাঃ রঞ্জিত সোনি বলেন, বাচ্চাদের বিশেষ করে গবিব এলাকার শিশুদের মধ্যেই কৃমি থেকে নানা ধরনের রোগব্যাধি বাড়ছে। কৃমিদমনের ক্ষেত্রে প্রচলিত ওষুধগুলি যেমন দামি, সেরকম গরিব মানুষের বিশেষ করে চা বাগান এলাকার অভিভাবকদের নাগালের বাইরে। কৃমিদমন নিয়ে সচেতনতা প্রচারও কম রয়েছে। এসব চিন্তাভাবনা করেই আমরা শিশুদের কৃমিদমনে হোমিয়োপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা শুরু করেছি। শিলিগুড়ির আশপাশ এলাকার চা বাগানে আমাদের এই গবেষণা শেষের পথে। ইতিমধ্যে গবেষণায় ভালো সাড়া মিলেছে। আর কয়েক মাসের মধ্যেই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হবে। তারপর স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কাছে তা পেশ করা হবে শিশুদের কৃমিদমনে হোমিয়োপ্যাথি ওষুধের সাফল্য।
ডাঃ রঞ্জিত সোনি বলেন, আমরা সার্ভে করে দেখেছি এ ধরনের গরিব এলাকার অভিভাবকরা বাচ্চাদের কৃমির চিকিৎসা সম্পর্কে অনেকেই অজ্ঞ। প্রচলিত ওষুধের দাম বেশি হওয়ায় অনেকে তাদের শিশুসন্তানদের কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে পারেন না। আবার অনেকে ওষুধ ঠিকমতো পান না। এর ফলে কৃমি থেকে চা বাগান সহ এরকম গরিব এলাকার বাচ্চাদের রক্তাপ্লতা, অপুষ্টি সহ নানা ধরনের রোগব্যাধি লেগেই রয়েছে। সেখানে হোমিয়োপ্যাথি ওষুধ কার্যকরী হচ্ছে। যার দাম খুবই সামান্য এবং সহজে পাওয়া যায়। ফলে তাঁরা বাচ্চাদের নিয়মিত হোমিয়োপ্যাথি চিকিৎসার মধ্য দিয়ে কৃমিদমন করতে পারবেন। বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে দূরে থাকবে শিশুরা।
শিশুদের কৃমিদমনের পাশাপাশি আরও বেশকিছু রোগ নিরাময়ে হোমিয়োপ্যাথি ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করছেন এখানকার গবেষকরা। এই রিসার্চ সেন্টারের আউটডোরে রোগী ক্রমশ বাড়ছে। গরিব মানুষের পাশাপাশি উচ্চবিত্ত পরিবারের লোকেরাও আসছেন।