অভিষেক পাল, বহরমপুর: পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতে ভারতে নাশকতা ঘটাতে পারে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলি। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার এমনই অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট পেয়ে ঘুম উড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিসের। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে নাশকতামূলক কার্যকলাপ সংগঠিত করতে পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি সংগঠন প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে আইএসআই সহযোগিতা করছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর। কোথায় কোথায় নাশকতা ঘটাতে পারে, তারও একটি ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে জঙ্গি সংগঠনগুলি। সেক্ষেত্রে, দেশের বড় কোনও স্থাপত্য বা পরিকাঠামোর উপর তাদের যেমন নজর রয়েছে, তেমনই ‘সফট টার্গেট’ হিসেবে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে গোলমাল বাঁধানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাতে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে আঞ্চলিক ক্ষোভ-বিক্ষোভকে। সব মিলিয়ে পাক গুপ্তচর সংস্থার মূল লক্ষ্যই হল, ভারতে অঞ্চল ভিত্তিক অচলাবস্থা তৈরি করে চরম আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো। রিপোর্ট পেয়েই সক্রিয় হয়ে উঠেছে রাজ্যের গোয়েন্দা দপ্তরও।
সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে এই রিপোর্ট প্রতিটি জেলার পুলিস সুপারকে পাঠানো হয়েছে। পুলিস কমিশনারদেরও পাঠানো হয়েছে। পত্রপাঠ নড়েচড়ে বসেছেন পুলিসের শীর্ষ কর্তারা। সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে বলে খবর। এলাকা ভিত্তিক সাম্প্রদায়িক সমস্যা ও হিংসাত্মক ঘটনার অতীত নিয়েও নাড়াচাড়া শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। জোর দেওয়া হচ্ছে তথ্য সংগ্রহে। রাজ্য এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নিবিড় সমন্বয় রেখে তা করবে বলে জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি ওয়াকফ বিলের প্রতিবাদে বিভিন্ন এলাকায় মিটিং, মিছিল, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি সংগঠিত হচ্ছে। এইসব আয়োজনের উদ্যোক্তাদের ভুল পথে চালিত করে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটানোর ছক রয়েছে আইএসআইয়ের। ফলে, এই সব কর্মসূচির উপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় পুলিসকে।
রাজ্যের এক গোয়েন্দা আধিকাররিক জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার রিপোর্ট অনুসারে, আইএসআই এবং তাদের সহযোগীরা ভারতের মাটিতে সন্ত্রাস বা নাশকতামূলক কার্যকলাপ ঘটাতে পারে। ক’দিন আগেই সেই অ্যালার্ট তাঁরা পেয়েছেন। ইতিমধ্যেই জঙ্গি সংগঠনগুলির সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সেই মতো নজরদারি বাড়ানো হবে। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রাথমিক জমিও তৈরি করতে পারে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। সেই মতো এলাকা ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
গত ক’মাসে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা, বহরমপুর, নওদা এলাকায় বেশ কয়েকটি সমস্যা মাথাচাড়া দেয়। এইসব সমস্যার হোতা অসাধু কিছু লোকজন। তারা সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার উস্কানিমূলক প্রচার করে গোলমাল পাকাচ্ছে। ঘটনার পর সেই ছবি এবং ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে রাজ্যের অন্যান্য এলাকাতেও অশান্তিতে ইন্ধন দিচ্ছে। ওইসব অসাধু লোককে চিহ্নিত করে তাদের মাধ্যমে উস্কানিমূলক বিভিন্ন কাজ পাক গুপ্তচর সংস্থা করতে পারে বলে গোয়েন্দারা সতর্ক। একই সঙ্গে পুলিসকেও সতর্ক থাকতে বলেছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বিএসএফ। বাংলাদেশের সঙ্গে মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও নদীয়া জেলায় বিস্তীর্ণ এলাকা কাঁটাতারহীন। ওইসব এলাকা দিয়ে জঙ্গিদের ভারতে ঢোকানোর প্ল্যান করতে পারে আইএসআই। ঠিক যে কায়দায় তারা জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি ঢোকায়। বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো সতর্ক ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।