নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) ইন্টারভিউয়ে ডাক পাওয়া প্রার্থীদের তালিকায় ‘দাগি’ কারা, খুঁজ বের করতে বলল হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার নির্দেশ, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেসব দাগি প্রার্থী চাকরি পেয়েছিলেন তাঁদের বিস্তারিত তথ্য-সহ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। দাগিদের ওএমআর শিট বা উত্তরপত্র প্রকাশ করারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সিনহা। আরও নির্দেশ, দাগিদের নাম, অভিভাবক অথবা বাবার নাম-সহ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। আগামী ৩ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
মামলায় অভিযোগ ছিল, দাগি হয়েও পরীক্ষায় বসার পর অনেক প্রার্থী ভেরিফিকেশনের জন্য ডাক পেয়েছেন। নীতীশরঞ্জন বর্মন নামে এক প্রার্থীর নাম উল্লেখ করা হয় শুনানি পর্বে। দাগিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি নীতীশরঞ্জনের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এচাড়াও চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ ছিল, পুরো নম্বর পেয়েও নতুন পরীক্ষার্থীদের অনেকে ইন্টারভিউয়ে ডাক পাননি। কেউ কেউ আবার প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে অতিরিক্ত ১০ নম্বর পেয়ে গিয়েছেন। পার্শ্বশিক্ষকদের অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়া নিয়ে এসএসসির বক্তব্য জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। এই মামলার শুনানি হবে আগামী ২ ডিসেম্বর।
অন্যদিকে, উত্তরপত্র বদলের অভিযোগ তুলে আরেকটি মামলা দায়ের হয়েছিল হাইকোর্টে। মামলা করেন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। তাঁদের আইনজীবীর অভিযোগ ছিল, এসএসসি প্রথমে প্রাথমিক উত্তরপত্র দেয়। পরে তারা চূড়ান্ত উত্তরপত্র প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, কিছু প্রশ্নে দুটি উত্তরকেই ‘সঠিক’ বলা হয়েছে। তাতে ভুল উত্তর দিলেও নম্বর দেওয়ার কথা জানিয়েছে এসএসসি। এর ফলে যাঁরা সঠিক উত্তর দিয়েছেন এবং যাঁরা ভুল উত্তর দিয়েছেন, দুজনই একই নম্বর পাবেন! চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের যুক্তি, এসএসসির এমন অবস্থানের ফলে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট হবে। এই মামলাতেও এসএসসির কাছে রিপোর্ট তলব করেছে আদালত। পরবর্তী শুনানি ১ ডিসেম্বর।