Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৃষ্টিতে বীরভূমে তিল চাষে ব্যাপক ক্ষতি

কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে বীরভূম জেলার তিল চাষিরা। সবেমাত্র ফল ধরতে শুরু করেছিল।

বৃষ্টিতে বীরভূমে তিল চাষে ব্যাপক ক্ষতি
  • ২৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে বীরভূম জেলার তিল চাষিরা। সবেমাত্র ফল ধরতে শুরু করেছিল। জমিতে বৃষ্টির জল জমে পচে মরে যাচ্ছে গাছ। স্বভাবতই হতাশা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। ক্ষতির ধাক্কা কীভাবে সামলাবেন বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁরা।  

Advertisement

বীরভূম‌ জেলাজুড়ে কোথাও আলু তোলার পর, কোথাও সর্ষে বা মসুর তোলার পরই তিল চাষ করা হয়। সেইমতো ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ থেকে তিল চাষে নেমে পড়েছিলেন চাষিরা। জেলা কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গতবছর জেলায় ৪৪৫০হেক্টর জমিতে তিল চাষ হয়েছিল। লাভজনক চাষ হওয়ায় ক্রমশ তিলচাষে ঝুঁকেছেন চাষিরা। এবছর ৪৫৭৫হেক্টর জমিতে সেই চাষ হয়েছে। কিন্তু সপ্তাহ দু’য়েক ধরে কখনও ভারী কখনও মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। সেইসঙ্গে দমকা হাওয়া দিচ্ছে। যার জেরে জমিতে জল জমে তিলচাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছ পচে শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। ক্ষতির মুখে পড়া তিল চাষিরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে তিল গাছ মরে যাচ্ছে। জমিতে ঘাস বেরিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। তাঁরা আরও বেশি সমস্যায় পড়ছেন।
মুরারই-২ ব্লকের উত্তর রামচন্দ্রপুর, খুটখাইল, কুলেরা গ্রামে তিলচাষের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়া উত্তর রামচন্দ্রপুরের চাষি দশরথ রবিদাস বলেন, দু’সপ্তাহ আগে প্রথম হাল্কা বৃষ্টি হওয়ায় ভেবেছিলাম কিছুটা সুবিধা হল। কিন্তু এরপর প্রায় প্রতিদিনই ভারী বৃষ্টিতে জমিতে জল জমে সব শেষ হয়ে গেল। তিনি বলেন, সর্ষে ও মসুর তোলার পর ১০বিঘা জমিতে তিলচাষ করেছিলাম। ফলও ধরেছিল। জুন মাসের মাঝামাঝি সময় তিল ঘরে তুলতাম। কিন্তু বৃষ্টিতে এতটা ক্ষতি হবে ভাবতে পারিনি। কী করে ক্ষতি সামাল দেব বুঝতে পারছি না। একই হাতাশার সুর কালাম শেখের গলায়। তিনি আট বিঘা জমিতে তিল চাষ করেছিলেন। তিনি বলেন, বিঘার পর বিঘার জমির তিলগাছ লাল হয়ে পচে গিয়েছে। 
ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা জানাচ্ছেন, বিঘা প্রতি তিল চাষে খরচ হয় চার হাজার টাকা। এবার যা ফলন হয়েছিল তাতে বিঘা প্রতি দু’কুইন্টাল করে তিল পাওয়া যেত। যা বিক্রি করে ঘরে আসত ১৪হাজার টাকা। কিন্তু সব আশায় জল ঢেলে দিল বৃষ্টি। জেলা কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বৃষ্টিতে তিল চাষের সেরকম ক্ষয়ক্ষতির কোনও রিপোর্ট এখনও পর্যন্ত আসেনি। ব্লকগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখে নিচ্ছি। অনেকদিন ধরে জমিতে জল জমে থাকলে গাছের গোড়া পচে যায়। সেক্ষেত্রে আল কেটে জল বের করে দিলে সুবিধা হয়। দপ্তরের ব্লক অফিসগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে পরামর্শ নেওয়া বা জানালে কৃষকরা উপকৃত হবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ