Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

মাত্র ২১ বছরেই হার্ট অ্যাটাক, পরীক্ষাকেন্দ্রে আশঙ্কাজনক মেদিনীপুর মেডিকেলের পড়ুয়া, কোলে নিয়ে ইমার্জেন্সিতে ছুট পরিদর্শকের, গ্রিন করিডরে পিজিতে

হার্ট অ্যাটাক হওয়ার বয়স কমছে—চিকিৎসকদের এই সাবধানবাণী যে স্রেফ ফাঁপা আওয়াজ নয়, মঙ্গলবার তার হাতেগরম প্রমাণ হয়ে রইল মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

মাত্র ২১ বছরেই হার্ট অ্যাটাক, পরীক্ষাকেন্দ্রে আশঙ্কাজনক মেদিনীপুর মেডিকেলের পড়ুয়া, কোলে নিয়ে ইমার্জেন্সিতে ছুট পরিদর্শকের, গ্রিন করিডরে পিজিতে
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৫ ১৫:১০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: হার্ট অ্যাটাক হওয়ার বয়স কমছে—চিকিৎসকদের এই সাবধানবাণী যে স্রেফ ফাঁপা আওয়াজ নয়, মঙ্গলবার তার হাতেগরম প্রমাণ হয়ে রইল মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। মাত্র ২১ বছর বয়সি প্রথম বর্ষের এক ডাক্তারি পড়ুয়ার প্রাণ বাঁচাতে গোটা মেডিকেল কলেজ তো বটেই, তারই সঙ্গে প্রশাসন ও সরকারও নিল অত্যন্ত সদর্থক ভূমিকা। পরীক্ষা কেন্দ্রেই ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয় তাঁর। ওই ছাত্রকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কোলে তুলে নিয়ে আইসিইউতে ছোটেন শিক্ষকরা। ৩০ মিনিটের মধ্যে তাঁকে জীবনদায়ী ইনজেকশন টেনেকটিপ্লেজ দিয়ে থ্রম্বোলাইসিস করে বিপদ কমানো হয় তাঁর। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার পর বাড়ির লোকজন পিজিতে উচ্চতর চিকিৎসার আর্জি জানালে পাশে পাওয়া যায় জেলা এবং রাজ্য প্রশাসনকে। এরপরই বুধবার দুপুরে মেদিনীপুর মেডিকেলের আইসিইউ থেকে রওনা করিয়ে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় পিজির কার্ডিয়োলজির আইসিইউতে ভরতি করা হয় তাঁকে। প্রথম বর্ষের ওই পড়ুয়ার নাম মনোরঞ্জন মুদি। অ্যাম্বুলেন্সে তাঁর সঙ্গী ছিলেন তৃতীয় বর্ষের পিজিটি ডাঃ স্পন্দন চৌধুরী। ডাঃ চৌধুরী বলেন, এখনও পর্যন্ত সবকিছু সময়ে এবং দ্রুত হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ মৌসুমি নন্দী বলেন, ওঁকে পিজিতে ভরতি করা হয়েছে। সমস্ত স্তরের সহযোগিতা পেয়েছি। 

Advertisement

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বেলায় সওয়া ১১টা নাগাদ ফিজিয়োলজি থিয়োরি পরীক্ষা  চলাকালীন সকাল হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড অস্বস্তি বোধ করেন মনোরঞ্জন। দরদর করে ঘামতে শুরু করেন তিনি। তারপর সেখানেই ঢলে পড়ে যেতে থাকেন। পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন তিনজন চিকিৎসক। এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডাঃ রহিন মাহাত, সার্জন ডাঃ সুদীপ্ত চট্টোপধ্যায় এবং রেডিয়োথেরাপিস্ট ডাঃ মুসতাকিম রহমান। ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত হওয়ার আগেই তাঁরা বুঝে যান, কী হতে চলেছে। সঙ্গে সঙ্গে মনোরঞ্জনকে মাটিতে শুইয়ে পা দুটি উপরে তুলে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করে দেন। ডাঃ মাহাত সময় বাঁচাতে কোলে তুলে নেন ছাত্রকে। হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে গিয়ে ইসিজি করালে হার্টের তিনটি দেওয়ালে বড়োসড়ো হার্ট অ্যাটাক ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে জীবনদায়ী ইনজেকশন দেওয়া হয়। অবস্থা স্থিতিশীল হলে কলেজের শিক্ষক চিকিৎসকরা মেদিনীপুরেই তাঁর অ্যাঞ্জিয়োপ্ল্যাস্টি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বেঁকে বসেন বাড়ির লোকজন। তাঁর চান পিজিতে হোক পরবর্তী চিকিৎসা। কলেজ কর্তৃপক্ষ গ্রিন করিডরের অনুরোধ জানায় জেলা প্রশাসনের কাছে। সেইমতো বুধবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ মনোরঞ্জনকে নিয়ে কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্স রওনা দেয় পিজিতে দিকে। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ তিনি ভরতি হন পিজির আইসিইউতে। 

সম্পর্কিত সংবাদ