রুবি হাসপাতালে দু’টি বিরল সার্জারি
রুবি হাসপাতালে দু’টি বিরল সার্জারি
পেটে ৯ কেজির টিউমার! আয়তনে প্রায় ৩৫ সেমি x ২৫ সেমি। রোগীর বয়স ৫৫। রিস্ক ফ্যাক্টর প্রচুর! হাসপাতাল সূত্রে খবর, পেটে অসহ্য যন্ত্রণা ও অস্বাভাবিক ফোলাভাব নিয়ে এমনই এক রোগী এসেছিলেন রুবি হাসপাতালে। অঙ্কোসার্জন ডাঃ ঐন্দ্রিলা বিশ্বাস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন রোগীর পেটে বাসা বেঁধেছে ‘রেট্রোপেরিটোনিয়াল লাইপোসারকোমা’ যা এক জটিল ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। প্রতি ১ লক্ষে গড়ে ০.৩ থেকে ০.৪ শতাংশের শরীরে এই রোগ দেখা দেয়। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে চলে অস্ত্রোপচার। সামান্য রক্তক্ষরণেই টিউমারটি বের করে আনতে সমর্থ হন চিকিৎসকরা। ৬ দিনের মাথায় সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরেছেন রোগী। এখানেই শেষ নয়, রুবি জেনারেলের আরও এক কৃতিত্ব, ভিডিও অ্যাসিস্টেড থোরাকোস্কোপিক সার্জারি(ভ্যাটস)। ভ্যাটস সহযোগে ম্যাকিউন ইসোফ্যাজেকটমি করে মিজোরামের অধিবাসী ৬৩ বছরের এক প্রৌঢ়ের প্রাণরক্ষা করল তারা। উন্নত এই প্রযুক্তিতে খাদ্যনালি অপসারণ এবং গ্যাস্ট্রিক নালি পুনর্গঠন করে রোগীকে সুস্থ করে তোলেন শল্যচিকিৎসকরা। ম্যাককিউন খাদ্যনালি অপসারণে খাদ্যনালি এবং পেটের নালির অবশিষ্ট অংশের অ্যানাস্টোমোসিস ঘাড়ে করা হয়। তাই এটি এক জটিল অস্ত্রোপচার। রোগী এখন সুস্থ।
ফলতার সেবাশ্রয়-এর ‘মিনি মেডিক্যাল কলেজ’!
ফলতা বিধানসভার চলতে থাকা সেবাশ্রয়-এ মডেল ক্যাম্প তৈরি হয়েছে হুবহু মেডিক্যাল কলেজের আদলে। একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সহ উন্নত হাসপাতালে রেফার করা, সবই চলছে সমান তাল। আর সেই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতে এবং এই অভিনব মিনি মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শনে সম্প্রতি সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস সহ মেডিক্যালের একাধিক সিনিয়র চিকিৎসক। এই মডেল ক্যাম্প-এর উদ্যোক্তা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ-এর পূর্ত ও পরিবহণ কর্মাধ্যক্ষ জাহাঙ্গির খান। তিনি বলেন ‘আমাদের এই উদ্যোগে মেডিক্যাল কলেজের টিম-এর পরিদর্শনে আমরা আপ্লুত।’
ক্যানসারে সেল থেরাপি: আলোচনায় এইচসিজি
• ‘ব্লাড ক্লাব এডুকেশন কনক্লেভ’-এর আয়োজন করল এইচসিজি ক্যানসার সেন্টার, কলকাতা। রক্তের ক্যানসার চিকিৎসায় সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরার জন্য কেন্দ্রীয় মঞ্চ হিসেবে কাজ করে এই সংস্থা। কনক্লেভে উপস্থিত ছিলেন হেমাটো অঙ্কোলজি বিশেষজ্ঞ, বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট (বিএমটি) চিকিৎসক এবং বেশ কয়েকজন ক্যানসারজয়ী। কনক্লেভে আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল ক্লিনিক্যাল সচেতনতা বৃদ্ধি, সহযোগিতামূলক শিক্ষাকে উৎসাহিত করা এবং রক্তের ক্যানসার চিকিৎসার বিবর্তন ও রোগীকেন্দ্রিক যত্নের উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান। এছাড়া কনক্লেভের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ক্লিনিম্যাক্স এবং কার-টি সেল থেরাপির মতো অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির উপস্থাপনা। এইচসিজি ইকো ক্যানসার সেন্টার, কলকাতার সিইও গুরবিন্দর সিং বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য আধুনিক রক্তের ক্যানসার চিকিৎসা সম্পর্কে জনমানসে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।’
ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানদের দু’দিন ব্যাপী সম্মেলন
আকাডেমি অব ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান অব ইন্ডিয়া (এএফপিআই)-এর ওয়েস্ট বেঙ্গল চ্যাপ্টার এবং সিপিডি গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে কলকাতায় আয়োজিত হল সম্মেলন। প্রথম দিন ছিল প্রি কনফারেন্স এবং ওয়ার্কশপ যা অনুষ্ঠিত হয় অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে। ছিলেন প্রায় ১০০ জন ফ্যামিলি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। আলোচনা হয় ক্যানসার, চিকিত্সা পরিষেবা এবং আইনি নানা দিক নিয়ে। পরবর্তী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় পার্ক হোটেলে। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য, দেশ-বিদেশের ২৫০ জন চিকিত্সক।
সম্মেলনের অর্গ্যানাইজিং চেয়ারপার্সন গ্রুপ ক্যাপ্টেন ডাঃ অভিজিত্ মণ্ডল জানান, সম্মেলনে আলোচনা হয় ফ্যামিলি মেডিসিনের উন্নতি, প্রসার ও এবং ফ্যামিলি ডক্টর-এর ধারণাকে জনপ্রিয় করে তোলার পথগুলি নিয়ে।