সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: ময়নাগুড়ির হাতিরবাড়ি এলাকায় তীব্র জলকষ্ট চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিডিওকে সমস্যার কথা জানানো হলেও তিনি পদক্ষেপ করেননি। ব্লক প্রশাসনের এই উদাসীনতায় এলাকার বাসিন্দারা ক্ষিপ্ত। বাধ্য হয়ে জর্দা নদী থেকে জল সংগ্রহ করে আনতে হচ্ছে তাঁদের। কারণ, এলাকার সৌরচালিত পাম্প দীর্ঘদিন ধরে খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। শুকিয়ে গিয়েছে বিভিন্ন বাড়ির কুয়ো। এলাকার জনপ্রতিনিধিকে জানিয়েও লাভ হয়নি বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ। দ্রুত জল সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ময়নাগুড়ির খাগড়াবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪০নম্বর বুথ হাতিরবাড়িতে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। গ্রামবাসীরা একসময় একত্রিত হয়ে ব্লক প্রশাসনিক আধিকারিকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। পানীয় জলের সমস্যার সমাধানের আশ্বাসবাণী শোনালেও আখেড়ে কিছুই হয়নি। ফলে জর্দা নদীতে নেমে গ্রামের বৃদ্ধবৃদ্ধা সকলকে বালতি বয়ে জল নিয়ে আসতে হচ্ছে। এলাকার দরিদ্র শ্রেণির পরিবারগুলিকেও টাকা খরচ করে পানীয় জল খেতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, গ্রামে পাইপ লাইন বসানো হলেও কোনও বাড়িতে জলের কল বসানো হয়নি। গ্রামের রাস্তায় কল থাকলেও তাতে জলই আসে না। এদিন দীপা রায় নামে এক গ্রামবাসী বলেন, আমরা বিডিও অফিসে গিয়ে জলের সমস্যার কথা জানিয়েছিলাম। জল ছাড়া আমরা বাঁচব কিভাবে? কিন্তু এখনও পর্যন্ত জলের সমস্যার সমাধান হয়নি। প্রায় দেড় বছর ধরে সৌরচালিত পাম্প খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। সেটা মেরামতির কোনও বালাই নেই। গরম পড়ছে। এরপর অবস্থা আরও খারাপ হবে। আমরা দ্রুত পানীয় জল চাই। বিনোদ রায় নামে আরএক বাসিন্দার কথায়, দিন মজুরি করে সংসার চালাই। জল কিনতেই আমাদের দম ফুরিয়ে যাচ্ছে। জল খেতে তো হবে। এদিকে দৈনন্দিন কাজের জন্য নদীতে নেমে জল নিয়ে আসতে হচ্ছে। প্রত্যেকের একই অবস্থা। জনপ্রতিনিধিরাও দেখেন না।
পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূলের মঞ্জু অধিকারী বলেন, এটা ঠিক এলাকায় জলের সমস্যা রয়েছে। তবে এলাকায় পাইপলাইনের কাজ চলছে। এটাও ঠিক যে ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে আমরা দেখা করে সমস্ত কিছু জানিয়েছিলাম। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু হচ্ছে-হবের বাইরে আর কিছুই হয়নি।
বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডুর বক্তব্য, ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গে আমরা কথা বলে নিচ্ছি। ওই এলাকায় জলের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের ময়নাগুড়ির অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পঙ্কজকুমার রায় বলেন, হাতিরবাড়ি এলাকায় কী সমস্যা রয়েছে, সেটা আমরা দেখছি। নিজস্ব চিত্র।