ওয়াশিংটন, ২ মে: হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আজ, শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ঘোষণা করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘করমুক্ত মর্যাদা’ কেড়ে নেওয়া হবে। এটাই ওদের প্রাপ্য বলে জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। যার ফলে এই ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়কেও এবার থেকে কর দিতে হবে। এতদিন পর্যন্ত করের আওতা থেকে মুক্ত ছিল হার্ভার্ড। কিন্তু সেই সুবিধা আর পাবে না বিশ্ববিদ্যালয়টি, ট্রাম্পের প্রশাসনের তরফে তেমনটাই জানানো হয়েছে। আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপের পর বেজায় চটেছেন দেশের বিশিষ্টরা। কারণ হার্ভার্ড শুধুই আমেরিকার নয়, গোটা বিশ্বের ক্ষেত্রে এক ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ শিক্ষাক্ষেত্রে কঠোর আঘাত বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষের ঝামেলা নতুন নয়। এই সংঘাতের সূত্রপাত বহুদিন আগেই। প্রসঙ্গত, হামাস ও ইজরায়েলের যুদ্ধের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র পশ্চিম এশিয়া ও গাজায় বিক্ষোভ প্রদর্শন থেমে থাকেনি। আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি হার্ভার্ডেও প্যালেস্তানীয়দের পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন বহু পড়ুয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভিতরে বা বাইরে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়ে ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন একাধিক পড়ুয়া। এমনকী বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ইহুদি বিদ্বেষ ছড়াতেও দেখা গিয়েছিল বেশ কিছু পড়ুয়াকে, এমনটাই অভিযোগ করে মার্কিন প্রশাসন। এমনকী এইধরনের পরিস্থিতি সামলাতে হার্ভার্ড কোনও পদক্ষেপ করছে না, বলেও অভিযোগ করেন তারা। ক্যাম্পাসে ইহুদি-বিদ্বেষ বন্ধ করার জন্য কী কী করা উচিত সেই কথা জানিয়ে বেশ কিছু শর্তাবলি আরোপের কথা জানিয়েছিল ট্রাম্পের প্রশাসন। তাতে বলা হয়েছিল, ওই শর্তগুলি না-মানলে শাস্তিস্বরূপ এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আর্থিক সাহায্য দেওয়া বন্ধ করা হবে।
যার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট অ্যালান গার্বার। তিনি জানিয়েছিলেন, কোনও চাপের মুখে তিনি মাথা নত করবেন না। তারপরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাপ্য ২২০ কোটি ডলার আটকে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। যার বিরুদ্ধে বোস্টন ফেডারেল কোর্টে মামলা দায়ের করে হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ। সেই ঘটনাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে এদিন চরম পদক্ষেপের পথে হাঁটলেন ট্রাম্প। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।