Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পরিবেশবান্ধব দু’চাকার যানের চলাচল বাড়াতে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ করুক সরকার, বাইসাইকেল দিবসে আবেদন

৩ জুন ‘বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস’। কলকাতার সাইকেলপ্রেমীরা দিনটি বিশেষভাবে উদযাপন করেন। এবছর তিন জুন, মঙ্গলবার রামমোহন লাইব্রেরিতে সাইকেল নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল একটি বেসরকারি সংগঠন।

পরিবেশবান্ধব দু’চাকার যানের চলাচল বাড়াতে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ করুক সরকার, বাইসাইকেল দিবসে আবেদন
  • ৪ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৩ জুন ‘বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস’। কলকাতার সাইকেলপ্রেমীরা দিনটি বিশেষভাবে উদযাপন করেন। এবছর তিন জুন, মঙ্গলবার রামমোহন লাইব্রেরিতে সাইকেল নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল একটি বেসরকারি সংগঠন। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়েছে সাইকেল নিয়ে। কলকাতা এই দ্বিচক্রযানটিকে ঘিরে একটু বেশিই নস্টালজিক। জানা যায়, ভারতের প্রথম সাইকেলটি তৈরি হয়েছিল কলকাতার উপকণ্ঠ সাঁতরাগাছিতে। প্রসন্নকুমার ঘোষ নামে এক কর্মকার নিজে ডিজাইন করে বানিয়ে ফেলেছিলেন একটি সাইকেল। এখনকার কালে দাঁড়িয়ে বিষয়টি সহজ মনে হতে পারে। কিন্তু, তখন বিষয়টি প্রায় অসম্ভব ছিল কারণ সেটি ১৮৭০ সালের ঘটনা। তখন কলকাতা প্রায় গ্রামের মতো। সেভাবে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি গায়ে। সাইকেল সম্পর্কে সবে জানতে শুরু করেছে ভারতের মানুষ। তখন নিজের উদ্ভাবনী শক্তি ব্যবহার করে একজন প্রান্তিক মানুষ ভারতে প্রথম দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি করে ফেললেন একটি সাইকেল! তৎকালীন সময়ের বিচারে বিষয়টি যুগান্তকারী এবং অভাবনীয়। 

Advertisement

সেই কলকাতা সাইকেলের চাকায় গড়িয়ে পথ চলবে এটাই তো স্বাভাবিক। সে কথাই বললেন, আয়োজক সংস্থার অন্যতম কর্ণধার অর্জুন মিত্তল। বিভিন্ন সমীক্ষা করে তাঁরা দেখেছেন, ভারতের অন্যান্য প্রদেশের তুলনায় কলকাতার মানুষের সাইকেল চালানোর প্রতি ঝোঁক তুলনামূলকভাবে বেশি। এছাড়া আলোচনায় উঠে এসেছে সাইকেল সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়। চালানোর উপকারিতা থেকে পরিবেশবান্ধব যান হিসেবে প্রয়োজনীতা ইত্যাদি। আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন নিউরো সার্জন ডঃ ক্রিস্টোফার জারবার। কলকাতা পুলিসের ট্রাফিক ট্রেনিং বিভাগের আধিকারিক প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী। রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি, সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট, নিউ দিল্লির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অনুমিতা রায়চৌধুরী। আসর’য়ের চিফ স্ট্র্যাটেজিক সঞ্জীব গোপাল, বাইসাইকেল মেয়র অফ কলকাতা শতঞ্জীব গুপ্তা প্রমুখ।
আলোচনায় উঠে এসেছে, কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিলে সাইকেল ভবিষ্যতে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। সাইকেল চালানো স্বাস্থ্যকর। শহরে বেশি করে চললে দূষণ কমবে ইত্যাদি। সাইকেল আরও জনপ্রিয় করে তুলতে সরকারকে নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছেন আলোচনায় উপস্থিত অতিথিদের অনেকে। জানা যায়, ১৮৯৭ সালে এ শহরে তৈরি হয়ে গিয়েছিল সাইক্লিস্ট অ্যাসোসিয়েশন। তা ক্রমে জনপ্রিয় হয়। জগদীশচন্দ্র বসু, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, নীলরতন সরকার সহ বহু বিখ্যাত ব্যক্তি কলকাতার রাস্তায় সাইকেল চালিয়েছিলেন।এ শহরের ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে দু’চাকার যানটি। পেট্রল-ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধির কালে তাকে ঘিরে মাতামাতি হবে এটাই তো স্বাভাবিক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ