Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চেম্বারে এনে মহিলাদের সঙ্গে সহবাস সরকারি চিকিৎসকের

একসময় তিনি শান্তিপুর হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। সেইসঙ্গে ফুলিয়ার একটি ফার্মেসিতে প্রাইভেট চেম্বারও চালাতেন

চেম্বারে এনে মহিলাদের সঙ্গে সহবাস সরকারি চিকিৎসকের
  • ১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: একসময় তিনি শান্তিপুর হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। সেইসঙ্গে ফুলিয়ার একটি ফার্মেসিতে প্রাইভেট চেম্বারও চালাতেন। আর সেই চেম্বারের আড়ালেই নাকি চলত তাঁর অশ্লীল কাজকর্ম! বেশকিছু আপত্তিকর ছবি ভাইরাল হতেই সোমবার ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকার লোকজন। ফার্মেসি ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় আমজনতা। শুধু তাই নয়, শান্তিপুর থানায় বিষয়টি নিয়ে একটি গণ স্মারকলিপিও জমা পড়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত চিকিৎসক এক সময় শান্তিপুর হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁর বদলি হয়ে যায়। একইসঙ্গে পড়তে তিনি বাইরের রাজ্যেও চলে যান। যদিও মাঝেমধ্যেই তিনি ফুলিয়া কলোনির একটি ফার্মেসিতে আসতেন প্রাইভেট চেম্বার করতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রাইভেট চেম্বার করার নাম করে ফার্মেসির ভিতর একটি ঘরে অশালীন কাজকর্ম করতেন ওই চিকিৎসক। বিভিন্ন মহিলাকে ডেকে নিয়ে এসে সেই চেম্বারে সহবাস করতেন তিনি। তারপর সেই ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করতেন ওই চিকিৎসক। ওই ফার্মেসির ভিতরে মধুচক্র চলে বলেও অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। রবিবার হঠাৎই ওই চিকিৎসকের বেশ কয়েকটি ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। তারপরেই তোলপাড় শুরু হয় গোটা এলাকায়। সোমবার ফার্মেসির সামনে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা বলরাম বসাক বলেন, ওই চিকিৎসক মাঝেমধ্যেই ফার্মেসির ভিতরের একটি ঘরে বিভিন্ন মহিলাকে নিয়ে এসে সহবাস করতেন। বিভিন্ন মহিলাকে ব্ল্যাকমেল করে তিনি এই আপত্তিকর কাজ করতেন। কয়েকটি ভাইরাল ভিডিও থেকে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। তাই আমরা প্রতিবাদ করতে নেমেছি। ভদ্র এলাকায় এই ধরনের অশালীন কাজ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। আমরা চাই, পুলিস-প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা চায়না দেবনাথ বলেন, এই ফার্মেসির মালিকের মদতেই ওই চিকিৎসক স্থানীয় কয়েকজন মহিলাকে নিয়ে এই চক্র চালাচ্ছিলেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলি সভ্য সমাজে দেখানোর মতো নয়। রবিবার ওই চিকিৎসক এই ফার্মেসিতে এসেছিলেন। যদিও ফার্মেসির মালিক সুযোগ বুঝে তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়। আমরা এর প্রতিবাদ করতেই রাস্তায় নেমেছি। পুলিসকে ওই চিকিৎসক এবং এই ফার্মেসির মালিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। যদিও এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত চিকিৎসককে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তিনি ফোন তোলেননি। জবাব দেননি মেসেজেরও।
জনরোষ ও বিক্ষোভের খবর পেয়ে শান্তিপুর থানার পুলিস ফুলিয়া কলোনির ওই ফার্মেসিতে পৌঁছয়। পুলিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি এবং অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলে জনরোষ শান্ত হয়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ওই ফার্মেসির মালিককে আটক করা হয়েছে। গণ স্মারকলিপি জমা পড়লেও কোনও মহিলা অবশ্য নির্দিষ্ট অভিযোগ করেননি। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই খোঁজ-খবর শুরু করেছে শান্তিপুর থানা। ফার্মেসির আড়ালে মধুচক্র চলত কি না, তা জানতে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খোঁজ চলছে তথ্য প্রমাণের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ