Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নেপালে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির জেরে আতঙ্কে সোনার কারিগররা

নেপালের ঘটনায় ঘাটাল মহকুমার বহু পরিবারের রাতের ঘুম উবে গিয়েছে। নেপালে ছাত্র-যুব অভ্যুত্থানের জেরে তৈরি হয়েছে চরম অস্থিরতা। অধিকাংশ দোকানপাট, হোটেল বন্ধ।

নেপালে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির জেরে আতঙ্কে সোনার কারিগররা
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

কাজলকান্তি কর্মকার, ঘাটাল: নেপালের ঘটনায় ঘাটাল মহকুমার বহু পরিবারের রাতের ঘুম উবে গিয়েছে। নেপালে ছাত্র-যুব অভ্যুত্থানের জেরে তৈরি হয়েছে চরম অস্থিরতা। অধিকাংশ দোকানপাট, হোটেল বন্ধ। তারই প্রেক্ষিতে অনাহারে ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নেপালে কর্মরত ঘাটাল মহকুমার সোনার কারিগররা।  প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর হিংসার ঘটনা বেড়ে গিয়েছে। আগুনে পুড়ছে নেতাদের বাড়ি, সরকারি দপ্তর, আদালত থেকে সংবাদ মাধ্যমের অফিস। সেনা নির্বিকার, পুলিশকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত ঘাটালের কয়েক হাজার সোনার কারিগর এবং গয়না ব্যবসায়ী কার্যত গৃহবন্দি। কাজে যাওয়া দূরের কথা,  দু’বেলা পেটভরে খেতে পারছেন না।

Advertisement

ঘাটাল থানার কুঠিঘাটের সুমিত জানা, দাসপুর থানার দরির তরুণ মাইতি, প্রভাকর মাইতি বা দাসপুর গঞ্জের নারায়ণ মাইতিরা হোয়াটসঅ্যাপ কলে তাঁদের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। সোমবার থেকে তাঁরা ঘরে বন্দি। বাজার বন্ধ, খাবার নেই। মঙ্গলবার সন্ধেয় এক ঘণ্টার জন্য বাজার খুলেছিল। কিন্তু বাস, গাড়ি না চলায় খাবারের ব্যবস্থা করা যায়নি। সুমিত বলেন, রাস্তায় বেরনোর মতো পরিস্থিতি নেই। রাস্তার অলিগলিও ফাঁকা। যে দোকানে কাজ করি, তা যে কোনও সময় লুট হয়ে যেতে পারে। শুনেছি, একজন বাঙালির দোকান ভেঙে দিয়েছে উত্তেজিত জনতা।
দাসপুর থানার দরি অযোধ্যার বাসিন্দা গোবিন্দ মাইতি ১৯৮৯ সাল থেকে নেপালে রয়েছেন। গয়না শিল্পের কারিগর। কিছু দিন হল বাড়ি এসেছেন।  কিন্তু, তাঁর বড় ছেলে গৌরব সহ পরিবার ও পরিচিত ৯-১০ জন নেপালেই রয়েছেন। গোবিন্দবাবু বলেন, রবিবার থেকে দুশ্চিন্তায় চোখের দু’পাতা এক করতে পারছি না। ঘাটালের প্রায় প্রতিটি পাড়ার কেউ না কেউ কাঠমাণ্ডু, পোখরা, তুলসীপুর বা অন্য শহরে গয়নার কাজে যুক্ত। তাঁদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। প্রচণ্ড উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি। নেপালজুড়ে লুটতরাজ চলছে। পুলিস না থাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরাই দোকান ও ঘরবাড়ি পাহারা দিচ্ছেন। তাতেও তাঁরা স্বস্তিতে নেই। 
ঘাটাল থানার কুঠিঘাটের বংশী জানা স্ত্রী ও পুত্রকে নিয়ে কাঠমাণ্ডুতে থাকেন। তিনি জানান, টিভি খুললেই আতঙ্ক বাড়ছে। আমার বাড়ির সামনেই একটা জেলখানা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। কয়েদিরা পালিয়ে গিয়েছে। তাতে লুটপাট আরও বাড়বে।  জানি না এভাবে ক’দিন থাকতে পারব। খাবার নেই, বাজার বন্ধ। এদিকে বর্ডার সিল থাকায় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ। তাই ইচ্ছে করলেও ভারতীয়রা দেশে ফিরতে পারছেন না।
দাসপুরের বিধায়ক মমতা ভুঁইয়া বলেন, নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য ঘাটাল মহকুমার সোনার কারিগর পরিবারের সদস্যরা প্রচণ্ড চিন্তায় আছেন। প্রতিবেশী দেশে অগ্নিগর্ভ আন্দোলনের ছায়া এসে পড়েছে আমাদের এখানে। সোনার কাজের জন্য বহু ঘাটালবাসী নেপালে রয়েছেন বছরের পর বছর। তাঁদের নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার কারণে ঘাটাল মহকুমাজুড়ে দমবন্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। আমরা পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ