Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

সওয়া লক্ষে সোনা, ১০ দিনে রুপোর বৃদ্ধি ৩২ হাজার টাকা!

সোনার দাম ইতিমধ্যেই মধ্যবিত্তের আয়ত্তের বাইরে চলে গিয়েছে। রুপোও কি সেই পথেই এগোতে চলেছে? যেভাবে গত কয়েকদিনে রুপোর দরে লাগাম পরানো যাচ্ছে না, তাতে কেজি প্রতি রুপোর দর কবে ২ লক্ষে পৌঁছাবে, তার দিকেই নজর রাখছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই।

সওয়া লক্ষে সোনা, ১০ দিনে  রুপোর বৃদ্ধি ৩২ হাজার টাকা!
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ১৬:১০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোনার দাম ইতিমধ্যেই মধ্যবিত্তের আয়ত্তের বাইরে চলে গিয়েছে। রুপোও কি সেই প঩থেই এগোতে চলেছে? যেভাবে গত কয়েকদিনে রুপোর দরে লাগাম পরানো যাচ্ছে না, তাতে কেজি প্রতি রুপোর দর কবে ২ লক্ষে পৌঁছাবে, তার দিকেই নজর রাখছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই। এরই সঙ্গে সোমবারও দামের নয়া রেকর্ড গড়েছে সোনা। তা পৌঁছেছে সওয়া এক লক্ষ টাকায়।

Advertisement

ওয়েস্ট বেঙ্গল বুলিয়ান মার্চেন্টস অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া দর অনুযায়ী, সোমবার কলকাতায় ২৪ ক্যারেট বিশুদ্ধতার ১০ গ্রাম সোনার দর যায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার ৯৫০ টাকা। গত শনিবারই সেই দর ছিল ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৫০ টাকা। অন্যদিকে, ২২ ক্যারেট বিশুদ্ধতার গয়না তৈরির সোনার ১০ গ্রামের দামও নয়া রেকর্ড করে সোমবার। যেখানে শনিবার তার দর ছিল ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৪৫০ টাকা, তা সোমবার পৌঁছায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৭৫০ টাকায়। রাজধানী দিল্লিতেও এদিন চমকে দিয়েছে সোনার বাজার। শনিবারের নিরিখে ২৪ ক্যারেট সোনার ১০ গ্রামের দর এক ধাক্কায় ১ হাজার ৯৫০ টাকা বেড়ে পৌঁছে যায় ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৯৫০ টাকায়। সব দরের সঙ্গেই যোগ হবে ৩ শতাংশ হারে জিএসটি। ফলে দাম যে আরও অনেকটা বাড়বে, সেই বিষয়ে সন্দেহ নেই।
এদিকে কলকাতায় কেজি পিছু খুচরো রুপোর দাম সোমবার গিয়েছে ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ৫৫০ টাকা। শনিবারের তুলনায় দাম বেড়েছে  প্রায় ১০ হাজার টাকা। আবার গত দশদিনের তুল্য‌মূল্য হিসেবে রুপোর দাম বেড়েছে কেজি পিছু প্রায় ৩২ হাজার টাকা। 
সোনার দামের মূল কান্ডারি যে ট্রাম্প প্রশাসন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতসহ প্রায় গোটা বিশ্বের সঙ্গেই যেভাবে শুল্ক যুদ্ধে নেমেছেন গত কয়েকমাস ধরে, তা সোনার দাম বৃদ্ধিতে জোরালো ইন্ধন জুগিয়েছে। তাতেই নবতম সংযোজন চীনের সঙ্গে নতুন করে শুল্কযুদ্ধ, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের কথায়, চীনের বেশকিছু পণ্যের উপর নতুন করে ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। একই সঙ্গে দুষ্প্রাপ্য খনিজ আমেরিকায় রপ্তানি বন্ধের পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। পরে অবশ্য চীনের প্রতি কিছুটা নরম মনোভাব দেখিয়েছেন ট্রাম্প। এই সবই বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। আবার সুদের হার কমাতে পারে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারাল রিজার্ভ। এই পূর্বাভাসও লগ্নি বাজারকে কিছুটা অস্থির রেখেছে। সব মিলিয়ে এই টালমাটাল অবস্থায় তুলনামূলক কম ঝুঁকির লগ্নি হিসেবে স্বল্পমেয়াদে সোনায় লগ্নির বহর বাড়ছে। তা ঠেলে তুলছে সোনার দরকে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে শিল্পক্ষেত্রে রুপোর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায়, তা ক্রমশ টেনে তুলছে রুপোর দরকে। সোনার দাম মাত্রা ছাড়ানোয়, বিকল্প বিনিয়োগ হিসেবে রুপোর চাহিদাও বাড়ছে। দামবৃদ্ধির এটিও অন্যতম কারণ, বলছেন অনেকেই।

সম্পর্কিত সংবাদ