নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মেদিনীপুর শহরের চিড়িমারশাই এলাকায় মুখার্জিবাড়িতে দেবী দুর্গা অভয়ারূপে পূজিতা হন। প্রতিবছর দশমীর দিন সিঁদুরের উপর রেখে যান সংকেত। সেই সিঁদুর পাঠানো হয় বিদেশেও। প্রায় ৩৫০বছর ধরে এই দুর্গাপুজো হয়ে আসছে। মুখোপাধ্যায় পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও এই পুজোয় শামিল হন।
এখন পুজোর দেখভালের দায়িত্বে আছেন পার্থপ্রতিম মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মা খুবই জাগ্রত। বাড়িতেই ঠাকুর তৈরি করা হয়। এই পুজোয় কোনও আমিষ খাবার থাকে না। সপ্তমীতে দেবীর ভোগে লাউয়ের ঘণ্ট, অষ্টমীতে মোচার ঘণ্ট ও নবমীতে পঞ্চব্যঞ্জন দেওয়া হয়। সপ্তমীর দিন থেকে মুখার্জিবাড়িতে হোমযজ্ঞ শুরু হয়। চারদিন ধরে নিরন্তর সেই যজ্ঞ চলে। যজ্ঞের আগুন নেভে না। এখানে দেবীর হাতে অস্ত্র থাকে না। শহরের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ পুজো দেখতে আসেন।
প্রায় ৩৫০বছর আগে এই এলাকার জমিদার ব্যানার্জিবাড়ির উদ্যোগে প্রথম দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল। এখন ওই পরিবারের আত্মীয় মুখার্জিবাড়ির সদস্যরা পুজোর সঙ্গে যুক্ত আছেন। জনশ্রুতি অনুযায়ী, ব্যানার্জি পরিবারের একজন স্বপ্নাদেশে মা অভয়াকে দেখেছিলেন। সেই থেকেই এই পুজোর সূত্রপাত। এখানে দেবীপ্রতিমা দশভুজা নয়, দ্বিভুজা। স্বপ্নাদেশ অনুসারে সিংহের রং সাদা রাখা হয়। যা শান্তির বার্তা বহন করে। রীতি অনুযায়ী অষ্টমীতে দুর্গাপ্রতিমার সামনে রুপোর থালায় সিঁদুর রাখা হয়। দশমীর দিন সেই থালাতেই দেবী বিভিন্ন সংকেত দিয়ে যান।
বর্তমানে পরিবারের অনেকে ইংল্যান্ড সহ নানা দেশে থাকেন। সেসব দেশে তাঁদের কাছে এই সিঁদুর পাঠানো হয়। এই পুজোর মাধ্যমে শান্তির বাণীই প্রচারিত হয়। সেজন্য বলিপ্রথা যেমন নেই, তেমনি দেবী দুর্গা ছাড়াও গণেশ ও কার্তিকের হাতেও কোনও অস্ত্র থাকে না। স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন দাস ও সোনু দে বলেন, জৌলুস কমলেও এই পুজো ঘিরে এখনও এলাকার মানুষের উৎসাহ রয়েছে। খুবই নিষ্ঠা সহকারে পুজো হয়।-নিজস্ব চিত্র