সংবাদদাতা, বহরমপুর: বালিকার বেশে কাঁসা, পিতলের বাসনের মধ্যে ফেরিওয়ালার ঝুড়িতে চেপেই ভাগীরথী পেরিয়ে বেলডাঙার সেনপাড়ায় আসেন বুড়িমা কালী। সেই রাতেই ফেরিওয়ালা স্বপ্নাদেশ পেয়ে অশ্বত্থতলায় শুরু করেন নিত্যপুজো। পরে প্রতিষ্ঠিত মন্দিরে পঞ্চমুণ্ডির আসনে পুজো হয়। দীপান্বিতা কালীপুজোয় বেলডাঙার বুড়িমাকে শোল মাছের ঝোল দিয়ে করা হয় ভোগ নিবেদন। বেলডাঙার বুড়িমা কালীর বয়স তিনশো পেরিয়েছে।
সেনপাড়ার সুবর্ণবণিক ত্রৈলক্য পাল মাথায় করে কাঁসা, পিতলের বাসন ফেরি করতেন ভরতপুরে। ফেরার পথে নিয়ে আসতেন রেশম। একদিন ভরতপুরের আলুগ্রাম থেকে ফেরার পথে বছর আটেকের সঙ্গীসাথিহীন এক বালিকার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় ত্রৈলক্যের। সেই বালিকা কাঁদতে কাঁদতে নদীপাড় হতে সাহায্য চায় তাঁর কাছে। তিনিই ওই বালিকাকে মাথার ঝুড়িতে বসিয়ে নিয়ে এসে সেনপাড়ার অশ্বত্থ গাছের নীচে নামান। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এরপরই অদৃশ্য হয়ে যায় সেই বালিকা। পরে সেই রাতেই বালিকা ত্রৈলক্য পালকে স্বপ্নাদেশ দিয়ে বলেন, আমাকে তুই নিয়ে এলি। অশ্বত্থগাছের নীচে আশ্রয় নিয়েছি। আমার নিত্যপুজোর ব্যবস্থা কর। কিন্তু ত্রৈলক্য পাল যেহেতু অব্রাহ্মণ তাই পাড়ার চট্টোপাধ্যায় পরিবারের হাত দিয়েই অশ্বত্থগাছের নিচে বুড়িমা কালীর প্রতিষ্ঠা ও নিত্যপূজা শুরু করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে মন্দির ও পঞ্চমুণ্ডির আসন প্রতিষ্ঠা করেই বুড়িমার পুজো চলে আসছে।
দীপান্বিতা অমাবস্যা, ফাল্গুনি ও শুল্কা চর্তুদর্শীতে বারোয়ারি পুজো হয়। এছাড়া প্রতি শনি, মঙ্গল, অমাবস্যা, অষ্টমী, নবমী, পূর্ণিমা, চর্তুদর্শী ও সংক্রান্তিতে মানসিকের পুজো হয়। এভাবে রথের দিন শেষ হয় পুজো। আগে ছাগ বলি হলেও বর্তমানে তা বন্ধ হয়েছে। মায়ের ভোগে লুচি, চতুরান্ন আবশ্যিক। এছাড়া দীপান্বিতা অমাবস্যায় শোল মাছের ঝোল নিবেদন করা হয় মাকে।
বেলডাঙা পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বুড়িমা কালীর মাহাত্ম্য ও অলৌকিক সব কাহিনি ছড়িয়ে রয়েছে দূরদূরান্তে। শাক্তমতে পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসেই পুজো করেন পুরোহিত। বুড়িমা কালী খুবই জাগ্রত বলেই বিশ্বাস এলাকার মানুষের।
স্থানীয় বাসিন্দা লক্ষ্মীনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বুড়িমার সঙ্গে যে কাহিনি জড়িয়ে, তার একবিন্দু মিথ্যা বা বানানো নয়। তবে বুড়িমা নাম কীভাবে হলো তার ব্যাখ্যা মেলেনি। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর কমিটি হয়েছে।
মন্দির কমিটির অন্যতম সদস্য স্মৃতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ১৯২৬ সালে সিএস সেটেলমেন্টে রেকর্ডে এই মন্দিরের এক শতক জায়গা ‘খেপা মায়ের’ নামেই উল্ল্যেখ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এই দেবীই বুড়িমা নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। প্রতীকী ছবি