নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ডাবল ইঞ্জিন শাসিত রাজ্যের মেয়েরাও সাতপাকে বাঁধা পড়ছেন বর্ধমানে আয়োজিত গণবিবাহের আসরে। তাঁরা প্রায় সকলেই গরিব-গুর্বো পরিবারের কন্যা। বিয়ের জন্য উপযুক্ত হয়ে উঠলেও বাধ সাধছিল অর্থ। আজ, শুক্রবার বর্ধমানের রথতলায় গণবিবাহের আসরে ভিনরাজ্যের ২৬ জন মেয়ের বিয়ে হবে ধুমধামের সঙ্গে। বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়কের এহেন মানবিক উদ্যোগে খুশি ওইসব রাজ্যের কন্যাদায়গ্রস্ত পিতারা।
বাংলার বিকাশ নিয়ে অষ্টপ্রহর কটাক্ষ করেন বিজেপির বঙ্গ ব্রিগেডের নেতা-নেত্রীরা। অথচ, সেই বিজেপি শাসিত চারটি রাজ্যের কন্যাদায়গ্রস্ত বাবা-মায়েরা বর্ধমানের ওই গণবিবাহের উপরই ভরসা রেখেছেন। আবেদনের ভিত্তিতে তাঁদের মেয়েদের বিয়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলার ও ঝাড়খণ্ডের মেয়েদেরও বিয়ে হবে সেখানে। সবমিলিয়ে সংখ্যাটা ১২৫। বিয়ের আয়োজনের কোনও খামতি থাকছে না। সানাইয়ের সুর, পাতপেড়ে খাওয়া কিংবা বরযাত্রীদের অ্যাপায়ন—সবই হচ্ছে জমজমাটভাবে। উদ্যোক্তাদের একজন তথা বিধায়ক খোকন দাস বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশের পাঁচজন, বিহারের চারজন, ঝাড়খণ্ডের তিনজন, দিল্লির দু’জন এবং রাজস্থানের দু’জন কনে রয়েছে। আমাদের রাজ্যের বিভিন্ন বিবাহযোগ্য তরুণ-তরুণীরাও গণবিবাহের আসরে থাকবেন।’
ভিন রাজ্যের কনেদের দেওয়া হবে বেনারসি শাড়ি, নাকের এবং কানের গয়না। বর এবং কনের জন্য থাকছে একটি করে আংটি। সব মিলিয়ে তাঁরা ১৩টি উপহার পাবেন। বর এবং কনের বাড়ি থেকে আসা লোকজনদের জন্য থাকবে ভুরিভোজের আয়োজন। বিভিন্ন ধরনের সবজি, মাংস, দই, মিষ্টি কোনও কিছুই বাদ থাকছে না। উদ্যোক্তারা বলেন, ‘১২ বছর ধরে গণবিবাহের আসর বসছে। ডবল ইঞ্জিন রাজ্যের পরিবারগুলিও এখানে বিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন জানাচ্ছে। দু’ তিন মাস আগে থেকে তাঁরা যোগাযোগ করছিলেন। পাত্র বা পাত্রী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোনও সীমানা দেখা হয় না। যে সব পরিবার আর্থিকভাবে পিছিয়ে, তাঁদের জন্যই এই গণবিবাহ।’
শুক্রবার সকালেই বর এবং কনেরা বর্ধমানে হাজির হয়ে যাবেন। বর্ধমান টাউন হলে তাঁদের রূপসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নামী বিউটি পার্লারের কর্মীরা এসে তাঁদের সাজাবেন। বিকালের দিকে টোটোয় চড়ে উত্তরপ্রদেশ বা দিল্লির কনেরা বিয়ে করতে রথতলার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। টোটোর সামনে বাজবে সানাই, বাজনা। সন্ধ্যা নামার কিছু পরে রথতলা মুখরিত হয়ে উঠবে ‘যদিদং হৃদয়ং মম’ মন্ত্রে।
খোকনবাবু বলছিলেন, ‘সব ধর্মের বর এবং কনেরা বিয়ের আসরে হাজির থাকবেন। সবার জন্য আলাদা আলাদাভাবে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারও বিয়ে হবে মুসলিম প্রথায়। আবার কারও হিন্দু মতে। আদিবাসী বর এবং কনেরাও নিজেদের প্রথা মেনেই বিয়ে করতে পারবেন। একই ভাবে দিল্লি বা উত্তরপ্রদেশের বর ও কনেরা নিজেদের নিয়মেই আগামী দিনে পথ চলার শপথ নেবেন। তাঁরা নিজ নিজ রাজ্যে প্রচলিত প্রথা মেনে বিয়ে করবেন।’
রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে আজ রথতলায় বিয়ের আসর হয়ে উঠবে এক টুকরো ‘ভারতবর্ষ’।