সংবাদদাতা, কাটোয়া: বিয়েতে এখন নতুন ট্রেন্ড ভিনটেজ কারে চেপে বউ আনতে যাওয়া। চুনোট করা ধুতির কোঁচা সামলে ভিনটেজ রোলস রয়েসের দরজা খুলে জমিদারি মেজাজে নামছে বর। জেনারেশন জেডের এটাই ফ্যাশন। খরচ পড়ছে ৬০ হাজার টাকা। অনলাইনেই মিলছে পছন্দ মতো ভিনটেজ কার। কাটোয়ার গ্রামগুলিতেও এখন এই ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। সঙ্গে জমিদারি স্টাইলে ফটোশ্যুট তো আছেই। এই বৈশাখে কাটোয়ার বহু গ্রামে অনলাইনে বুকিং করে আনানো হয়েছে দুধ সাদা রোলস রয়েস। কাটোয়া-১ ও ২ ব্লকে বেশ কয়েকটি গ্রামে বিয়েতে কলকাতার এক বেসরকারি সংস্থা রোলস রয়েস সাপ্লাই দিয়েছে।
কলকাতার ওই সংস্থার ভিনটেজ কার চালক ফায়জল খান বলেন, আমাদের সংস্থার কাছে সব রকমের ভিনটেজ কার মজুত রয়েছে। হুড খোলা জিপ গাড়িও রয়েছে। গাড়ি অনুযায়ী আমাদের ভাড়া পড়ে। আমরা অনলাইনে বুকিং পেয়েই কাটোয়ায় এসেছি। এখানেই পর পর বেশ কয়েকটি বিয়েতে ভাড়া আছে। কাটোয়ায় ভাড়া ষাট থেকে পঁয়ষট্টি হাজার। আরেক ভিনটেজ কার সংস্থার কর্মী ফারুক আনসারি জানালেন, এখন নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ভিনটেজ কার বেশি পছন্দ করছে। মূলত ফোটোশ্যুটের জন্যই রোলস রয়েসের চাহিদা বেড়েছে। বিয়ের মরশুমে চাহিদা সামলাতে আমরা হিমশিম খাই।
শুধু ভিনটেজ কারে বিয়েই নয়, সেই অনুযায়ী বর-কনের সাজ পোশাকেও বদল এসেছে। ভিনটেজ কারে বিয়ের শখ মেটাতে পঞ্চাশ বছর আগেকার দেশি সাজেই নতুন প্রজন্ম বিয়ের পিঁড়িতে বসছে। কাটোয়ায় কয়েকজন বিয়েবাড়ি ফোটোগ্রাফার বলছেন, এখন কেউ ঘোড়ায় টানা গাড়িতে, কেউ পালকিতে চেপে বিয়ে করতে যাচ্ছে। এমনকী কয়েকদিন আগে গুসকরায় গোরুর গাড়িতে করেও বিয়ে করতে গিয়েছে বর। মানে ছবি তোলার ইচ্ছা পূরণেই এসব করছেন অনেকে।
দুধ সাদা রোলস রয়েসের সামনে দুটি হর্ন। ভিতরে লাল রঙের আসন। এক ঝলকে দেখলেই মনে হবে সাবেকি জমিদারি আমলের। বৈশাখের তপ্ত দুপুরে পুকুর, সবুজ ধান খেতের পাশ দিয়ে ছুটছে সেই পক্ষীরাজ। মঙ্গলকোটের বাউরা গ্রামে মিহির ঘোষের বেশ কয়েকটি পালকি রয়েছে। সেখানেই এখন থেকেই গত কয়েকদিন ধরে ভিড় বেড়েছে পালকির খোঁজে। বিয়ের মরশুমের জন্য বুকিং করে ফেলছেন সাধের পালকি। নদীয়া, হুগলি, বীরভূম, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ জেলা থেকেও পালকির খোঁজে লোক আসছে বাউরা গ্রামে। কয়েক বছর ধরেই বাউরা গ্রামে আবার নতুন করে পালকির খোঁজ শুরু হয়েছে। মিহিরবাবু আবার নতুন করে বেহারা দিয়ে পালকি ভাড়া দিচ্ছেন। -নিজস্ব চিত্র