Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুরুলিয়া জেলে বসে ডাকাতির ছক গ্যাংয়ের পান্ডার, জেরায় স্বীকার করল ধৃত শাগরেদরা

পুরুলিয়া জেলে বসে পশ্চিমবঙ্গ, ঝা‌‌ড়খণ্ড ও বিহারে স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থায় ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই জেলায় একটি জুয়েলারি শপে ডাকাতির ঘটনায় অভিযুক্ত জেলবন্দি ওমপ্রকাশ প্রসাদ ওরফে গুড্ডো ছিল এর মাথা।

পুরুলিয়া জেলে বসে ডাকাতির ছক গ্যাংয়ের পান্ডার, জেরায় স্বীকার করল ধৃত শাগরেদরা
  • ১০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুরুলিয়া জেলে বসে পশ্চিমবঙ্গ, ঝা‌‌ড়খণ্ড ও বিহারে স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থায় ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই জেলায় একটি জুয়েলারি শপে ডাকাতির ঘটনায় অভিযুক্ত জেলবন্দি ওমপ্রকাশ প্রসাদ ওরফে গুড্ডো ছিল এর মাথা। ঝাড়খণ্ডে তার গ্যাংয়ের চার সদস্য ধরা পড়ার পর এই তথ্য উঠে এল সেখানকার পুলিসের হাতে। বিষয়টি নিয়ে তারা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জেলকে জানিয়েছে বলে খবর। তবে জেলের ভিতর অভিযুক্ত কীভাবে মোবাইল ব্যবহার করল তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Advertisement

কয়েকমাস আগে ওড়িশায় সম্বলপুরে একটি সোনার দোকানে ডাকাতির পর অভিযোগ উঠেছিল কলকাতার জেলে বসে সুবোধ গোটা বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেছে। বিহার পুলিস দাবি করে, ঘটনায় অভিযুক্তরা ধরা পড়ার পর একই কথা জানিয়েছে। এই অবস্থায় জেলে অপরাধীদের মোবাইল ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এবার আবার একই ঘটনা সামনে আসছে। কয়েকদিন আগে ঝাড়খণ্ডের ব্যাঙ্ক মোড়ে একটি স্মল ফাইনান্স ব্যাঙ্কে ডাকাতি করতে ঢোকে দুষ্কৃতীরা। স্থানীয় পুলিসের তৎপরতায় চার ডাকাত ধরা পড়ে। যার মধ্যে প্রকাশ কুমার ও ঋষভ ছিল বিহারের, করমজিৎ সিং ও আরমান আনসারি ছিল ধানবাদের বাসিন্দা। ঝাড়খণ্ডের ব্যাঙ্ক মোড় থানার ওসি প্রবীণ কুমার জানিয়েছেন, ধৃতদের জেরা করতেই জানা যায়, এর পিছনে রয়েছে পুরুলিয়ায় জেলবন্দি ডাকাত ওমপ্রকাশ। জেলে বসেই তার শাগরেদদের ডাকাতির নির্দেশ পাঠিয়েছিল সে। ঝাড়খণ্ড পুলিসের দাবি, ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইলের সূত্রে তারা জেনেছে, যে নম্বর থেকে ডাকাতি করার কলটি এসেছিল, তার টাওয়ার লোকেশন ছিল পুরুলিয়া জেল। এখান থেকেই তদন্তকারীরা জেলে বসে কলের বিষয়ে নিশ্চিত হন। ওমপ্রকাশের বিরুদ্ধে বিহার ও ঝাড়খণ্ড মিলে ডজনখানেক ডাকাতির মামলা রয়েছে। তার গ্যাংয়ে একশো থেকে দেড়শো ছেলে রয়েছে। সুবোধের কায়দায় সে পশ্চিমবঙ্গ সহ সমস্ত রাজ্যে নিজস্ব নেটওয়ার্ক রেখেছে। সেখান থেকে তার কাছে নিয়মিত খবরাখবর যায়। তদন্তকারীরা জেনেছেন, ধরা পড়ার পর ওমপ্রকাশ বেশ কিছুদিন চুপ ছিল। ফের সে গ্যাংয়ের সদস্যদের সক্রিয় করতে শুরু করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে ঝাড়খণ্ড লাগোয়া এই রাজ্যের জেলায় থাকা সোনার দোকান, স্বর্ণঋণদানকারী সংস্থাকে টার্গেট করেছে ওমপ্রকাশের গ্যাং। তার শাগরেদরা এখানে ঘুরে গিয়েছে। একইসঙ্গে বিহার ও ঝাড়খণ্ডে রেকি করেছে। জেলে বসেই বড় অপারেশনের টার্গেট করে চলেছে ওমপ্রকাশ। সুবোধের কায়দাতেই লুট হওয়া সামগ্রী বিহারে তার বাড়িতে জমা পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে হেফাজতে  নেবে ঝাড়খণ্ড পুলিস।
সংশোধনাগারে বসে ওমপ্রকাশের ফোনের বিষয়ে পুরুলিয়া জেলের জেলার স্বতন্ত্রকুমার দাসকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা তাঁর জানা নেই। তবে জেলে মোবাইল কেউ ব্যবহার করছে কি না, এই নিয়ে প্রতিদিন তল্লাশি চলে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ