সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: কলকাতার ইডেন গার্ডেনে শুক্রবার সন্ধ্যায় জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আইপিএল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে। জঙ্গিপুরে চায়ের দোকান, আড্ডার ঠেকে আইপিএল নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু সেইসঙ্গে আইপিএল শুরু হতেই নানা এলাকায় বেটিং চক্র সক্রিয় হয়েছে। এই জুয়ার ফাঁদে পড়ে যুবকদের একাংশ সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। পুলিসকর্তারা অবশ্য দাবি করেন, এসংক্রান্ত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খুব তাড়াতাড়ি বেটিং রুখতে পুলিস বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাবে।
জঙ্গিপুরের এক পুলিস আধিকারিক বলেন, এবিষয়ে আমরা এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবই, সেইসঙ্গে আইপিএল বেটিং রুখতে পুলিস সতর্ক আছে। এর আগে বেশ কয়েকজন যুবককে আটক করে সতর্কও করা হয়েছে।
সারা দেশের মতো জঙ্গিপুর মহকুমাজুড়েও আইপিএল ক্রিকেট নিয়ে উন্মাদনা দেখা দিয়েছে। পাড়ার মোড়ে, চায়ের দোকান ও গঙ্গার ঘাটে কান পাতলেই আইপিএল ক্রিকেট নিয়ে তুমুল তর্ক শোনা যাচ্ছে। টিম ও প্লেয়ারদের নিয়ে চুলচেরা বিচারবিশ্লেষণ চলছে। কোন দল সবচেয়ে ভালো, কাদের ব্যাটিং অর্ডার শক্তিশালী, কারা দুর্বল-তা নিয়ে কথা চলছে। কিন্তু কোথাও কোথাও আপাতদৃষ্টিতে যা চোখে পড়ছে, শুধু সেটুকুই নয়। সেসব ক্ষেত্রে এই কথাবার্তা, তর্কে জড়িয়ে যুবকদের বাজি ধরতে প্ররোচিত করছে বেটিং চক্রের লোকজন। কোন প্লেয়ার আগে কোন দলে ছিলেন, গতবার কত টাকায় নিলাম হয়েছিল, কোন খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ রান কত-এসবই গড়গড় করে বলে দিচ্ছে তারা। কেউ তর্ক করলেই মোবাইলে নেট ঘেঁটে দেখিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর এই তর্কের মাধ্যমেই ধীরে ধীরে যুবকদের জুয়ায় টাকা লাগাতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
এই জুয়ার বুকিরা নিজেদের মধ্যে কথা বলছে সাঙ্কেতিক ভাষায়। ‘১২ রেটে একটা খেলাম’-এভাবেই চলছে কথাবার্তা। এখানে ১২ রেটের অর্থ-একপক্ষ একহাজার ও অপরপক্ষ ১২হাজার টাকা বাজি ধরবে। ‘একটা খেলাম’ মানে একজন বাজি ধরল। যারা শক্তিশালী দলের হয়ে বাজি ধরবে, বাজিতে হেরে গেলে তারা ১২হাজার টাকা করে দেবে। যারা দুর্বল দলের পক্ষে বাজি ধরবে, তারা হেরে গেলে একহাজার টাকা করে দেবে। এভাবে ১২, ১৩, ১৮, ১৯ তো বটেই, ‘হট ফেভারিট’ বনাম দুর্বল দলের খেলা হলে একহাজারে ৫০হাজার রেটও ওঠে। মাঝখান থেকে মিডলম্যান বুকি দু’পক্ষের সঙ্গেই তিন বা চার পার্সেন্ট হিসেবে চুক্তি করে। সেই টাকা সে নিজে রেখে দেয়। এই বুকিদের সঙ্গে কথা বলেই বাজি ধরা হয়।
পুলিসের নজর এড়াতে বুকিং চক্রের কোনও কাজের কাগজপত্রের প্রমাণ রাখা হয়নি। তবে পার্টি যে জুয়াখেলার চুক্তি করেছে, সেটা বুকিরা মোবাইলে রেকর্ড করে রাখে। যাতে কেউ হেরে গিয়ে জুয়া খেলার কথা অস্বীকার করতে না পারে। খেলার পরদিন কোনও গোপন আস্তানা বা চায়ের দোকানে টাকা লেনদেন হচ্ছে। এই জুয়ায় দিন দিন যুব সম্প্রদায়ের অনেকেই আসক্ত হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ জুয়ায় হেরে টাকা ফেরাতে না পেরে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। আবার কেউ কেউ বুকিদের হয়ে কাজ করছে।