Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুবাই থেকে ফেরার পথে লখনউ বিমানবন্দরে ধৃত পলাতক দুষ্কৃতী

সিঁথিতে সোনার অলঙ্কার তৈরির কারখানার গেটে ডাকাতিতে অভিযুক্ত ভাড়াটে দুষ্কৃতী আব্বাস রাজা ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিল।

দুবাই থেকে ফেরার পথে লখনউ বিমানবন্দরে ধৃত পলাতক দুষ্কৃতী
  • ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিঁথিতে সোনার অলঙ্কার তৈরির কারখানার গেটে ডাকাতিতে অভিযুক্ত ভাড়াটে দুষ্কৃতী আব্বাস রাজা ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিল। সে দুবাই পালিয়ে গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে সোনার  দোকানেই কাজ নিয়েছিল সে। ইতিমধ্যে তার নামে লুক আউট নোটিস জারি হয়। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওযায় উত্তরপ্রদেশে ফিরতেই লখনউ বিমানবন্দর থেকে শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রবিবারই তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

Advertisement

গত বছরের ৩০ অক্টোবর সিঁথির রাজা অপূর্ব কৃষ্ণ লেনে সোনার গয়না তৈরির কারখানার গেটের সামনে লুট হয় ২ কেজি ৩৮০ গ্রাম সোনা। কারখানার কর্মী সঞ্জিতকুমার রায় বড়বাজারের গোডাউন থেকে এই সোনা নিয়ে এসেছিলেন। গেট খোলার জন্য বাইক রেখে তিনি কিছুটা এগিয়ে যান। ওই বাইকেই সোনা রাখা ছিল। তখনই এক দুষ্কৃতী সঞ্জিতের মাথায় বন্দুক ঠেকায়। অন্য দুষ্কৃতী সোনা সহ বাইক নিয়ে চম্পট দেয়। অভিযোগ দায়ের হয় সিঁথি থানায়। পরে তদন্তভার নেয় লালবাজারের ডাকাতি দমন শাখা। 
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ডাকাতির ‘মাস্টারমাইন্ড’ সেখানকারই এক প্রাক্তন কর্মী। তিনজনকে পাকড়াও করে পুলিশ। ইসরাইল নামে ওই ‘মাথা’ গোয়েন্দাদের জানায়, সে রীতিমতো দুষ্কৃতী ভাড়া করে এই ডাকাতি করেছে। আব্বাস রাজা নামে ওই দুষ্কৃতীর বাড়ি উত্তরপ্রদেশের আম্বেদকর নগরের আকবরপুরে। লালবাজারের ডাকাতি দমন শাখার অফিসাররা আব্বাসের বাড়িতে হানা দেন। কিন্তু সেখানে তাকে পাওযা যায়নি। পরিবারের লোকেরা জানায়, আব্বাস দুবাই চলে গিয়েছে। সেখানে তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের এক বাসিন্দার সোনার অলঙ্কার তৈরির কারখানা রয়েছে দুবাইতে। আগেও সে সেখানে কাজ করেছে। আব্বাস দুবাই পালিয়েছে জানার পর তার নামে লুক আউট নোটিস জারি হয়। তার ছবি দেশের সমস্ত বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। শনিবার রাতে আব্বাস লখনউ বিমানবন্দরে নামামাত্র তাকে আটক করে সিআইএসএফ। খবর পেয়ে লালবাজারের গোয়েন্দারা রবিবার তাকে কলকাতায় নিয়ে আসেন।
অভিযুক্ত আব্বাসকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, ইসরাইলই তাকে ভাড়া করেছিল। দু’জন উত্তরপ্রদেশের একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় পরিচিতি ছিল আগে থেকেই। ঘটনার দিন সে আগ্নেয়াস্ত্র ধরেছিল। সোনা লুটের পর কাছাকাছি এলাকায় তারা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেয়। এরপর লোকাল ট্রেন ধরে সে বর্ধমান যায়। সেখান থেকে আবার ট্রেন পাল্টে আসানসোলে পৌঁছয়। জেনারেল কামরার টিকিট কেটে আসানসোল থেকে উত্তরপ্রদেশগামী ট্রেনে ওঠে। ২ নভেম্বর বাড়ি পৌঁছে সে ব্যাগ গুছিয়ে নেয়। দালাল ধরে সেদিনই ভিসা বের করে নেয় অভিযুক্ত। তারপর চম্পট দেয় দুবাই। সে আর কোথায় কোথায় অপরাধ করেছে, জেরা করে জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ