নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনায় বিনামূল্যে খাদ্যশস্য বণ্টন নিয়ে কৃতিত্ব দাবি করে মোদি সরকার। কিন্তু এবার এই খাতে বাজেট বরাদ্দ যথেষ্ট নয় বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের। রেশন মারফত বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহের জন্য ভরতুকি খাতে কিছুটা বেশি টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাও পর্যাপ্ত নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ চাল-গম চাষিদের থেকে ক্রয় এবং সরবরাহ ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ এবং রেশন দোকান থেকে বণ্টনের জন্য রাজ্যগুলিকে অর্থ দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। এই খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বরাদ্দের চেয়ে বাস্তবে অনেক কম টাকাই দেওয়া হচ্ছে। বাজেট পরিসংখ্যানেই তা স্পষ্ট।
রাজ্যের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বহন এবং ডিলারদের কমিশন বাবদ ২০২৫-২৬-এর বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৭,০৭৫ কোটি টাকা। কিন্তু সংশোধিত বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে বাংলাসহ সমস্ত রাজ্যকেই বঞ্চনা করল কেন্দ্র। আগামী অর্থবর্ষের জন্য এই খাতে ৬,৫০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। কিন্তু এই পরিমাণ খুবই কম বলে মনে করেন অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু। ডিলারদের সাধারণ কমিশন কুইন্টাল প্রতি ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ৯৮ টাকা হতে পারে। ই-পস ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত কমিশন কুইন্টালে মাত্র ২ টাকা বেড়ে হবে ২৩ টাকা। বেশ কিছুদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকার ডিলারদের কমিশন প্রদানের বর্ধিত দায় রাজ্য সরকারগুলির ঘাড়ে চাপাবার চেষ্টা করছে। সেই প্রবণতার প্রতিফলন রয়েছে এবারের বাজেটেও।
অন্যদিকে, স্মার্ট পিডিএস অর্থাৎ আধুনিকীরণ ও সংস্কার খাতে বরাদ্দ ৩৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৬৮ কোটি টাকা করা হয়েছে। আগামী দিনে খাদ্যসামগ্রীর পরিবর্তে গ্রাহকদের সরাসরি টাকা দেওয়ার জন্য রেশনব্যবস্থা সংস্কারের উপর বিশেষ জোর দিয়েছে কেন্দ্র। অভিযোগ করেছে ডিলার সংগঠন। রেশন মারফত খাদ্য সরবরাহের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রয়োজনের তুলনায় কম অর্থ দেওয়ার বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠেছে। কয়েকদিনের মধ্যেই রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠন আন্দোলনের কর্মসূচি নেবে। জানিয়েছেন বিশ্বম্ভরবাবু। তাঁর ঘোষণা, এমন বঞ্চনা কোনো অবস্থাতেই তাঁরা মেনে নেবেন না।