নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: কনস্টেবলের চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগে বীরভূমের নাম জড়িয়েছে আগেই। পরীক্ষা চলাকালীন বীরভূমের এক পরীক্ষার্থীকে কানে হেডফোন সমেত গ্রেফতার করা হয়। নকল প্রশ্ন বিক্রির অভিযোগে কলকাতা পুলিশে কর্মরত নানুরের যুবককেও গ্রেফতার করা হয়। সব ক্ষেত্রেই বীরভূমের যোগ খুঁজে পেয়েছিল পুলিশ। এবার চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগে আহমদপুর থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করল সাঁইথিয়া থানার পুলিশ। ধৃতের নাম কৃষ্ণ হালদার। ধৃত মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার রেল কলোনি এলাকার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার ধৃত কৃষ্ণকে সিউড়ি আদালতে তোলা হয়। অভিযুক্তের ছ’দিনের পুলিশি হেপাজত মঞ্জুর করেছে আদালত। তবে, ঘটনায় জড়িত ‘মূল’ অভিযুক্ত বীরভূমের বাসিন্দা। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করতে চাইছে না পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদের সালার থানার টিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা অসীম রাজবংশী বুধবার বীরভূমের সাঁইথিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অসীমের অভিযোগ, তিনি ও তাঁর দুই বন্ধু ফিরোজ শেখ এবং দিলীপ রাজবংশী প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। চাকরি দেওয়ার নাম করে ইতিমধ্যেই তিনজনে ৫০ হাজার টাকা করে দিয়ে দিয়েছেন। চাকরি নিয়েই চূড়ান্ত কথাবার্তা বলতে তাঁদের আহমদপুরে ডেকেছিল ওই দুই অভিযুক্ত। কিন্তু তাঁরা বুঝতে পারেন যে, প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। দেরি না করে সাঁইথিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তারপরেই তদন্তে নেমে পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করে। অন্যজনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই তিন চাকরি প্রার্থীর সঙ্গে ধান কেনাবেচার সূত্র ধরে যোগাযোগ হয় কৃষ্ণ হালদারের। কৃষ্ণের সঙ্গে বীরভূমের ওই প্রতারকের যোগাযোগ আগে থেকেই ছিল। ওই দুই প্রতারক নিজেদের প্রভাবশালী যোগের কথা জানায়। পুলিশ মহলের পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে তাদের পরিচয় আছে বলে বিশ্বাস অর্জন করে। সেইমতো প্রত্যেকে বিশ্বাস করে ৫০ হাজার টাকা করে দেয়। তবে, প্রতারকদের দরকার ছিল আরও টাকার। তাই চাকরি ‘চূড়ান্ত’ করতে তিন চাকরিপ্রার্থীকে আহমদপুর রেল স্টেশন থেকে একটু দূরে একটা ফাঁকা জায়গায় ডেকে পাঠায়। তবে, প্রতারকদের কথায় একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পায় ওই তিন যুবক। তাঁরা বুঝতে পারেন, প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। এরপরেই পুলিশে অভিযোগ করেন। তড়িঘড়ি পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করে।
জেলা পুলিশ সুপার বলেন আমনদীপ বলেন, তদন্তের সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ধৃতকে জেরা করা হচ্ছে। তারা অন্য কোথাও প্রতারণার ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, কোনও বড়সড়ো প্রতারণা চক্রের যোগ আছে কি না এবং কিংবা নকল প্রশ্ন বিক্রির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার ছিল রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদে পরীক্ষা। সেই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে। পরীক্ষার দিনই প্রশ্ন ফাঁসের একাধিক চক্রের হদিশ পেয়েছিল পুলিশ। ঘটনায় সব মিলিয়ে অন্তত ২৫জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর বিভিন্ন থানা এলাকা থেকেই টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার প্রতারণার অভিযোগও জমা পড়ছে।