নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিয়ালদহে চার বাঙালি ছাত্রের নিগ্রহের ঘটনার তদন্তে নেমে মুচিপাড়া থানার পুলিস উদ্ধার করল চারটি হকি স্টিক ও একটি বাঁশ। ওইগুলি দিয়েই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারমাইকেল হস্টেলের চার ছাত্রকে নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে মামলাটি উঠলে সরকার পক্ষ থেকে এমনই বক্তব্য পেশ করা হয়। পুরো বিষয়টি নিয়ে জোরদার তদন্ত করা হচ্ছে বলে পুলিস আদালতে জানায়। এদিন এই মামলায় ধৃত চার অভিযুক্তের জামিনের আর্জি জানানো হয়। সরকারি কৌঁসুলি ত্রিবেণী রেড্ডি জোরালো আপত্তি জানান। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। এই সময় অভিযুক্তরা জামিন পেলে চম্পট দিতে পারে। তাতে মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধৃতদের জেরা করে যে সমস্ত তথ্য‑প্রমাণ মিলেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরাও করা হয়েছে।’ অন্যদিকে, ধৃতদের তরফে যেকোনও শর্তে জামিনের আর্জি জানানো হয়। ব্যাঙ্কশালের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (এসিজেএম/২) মামলার কেস‑ডায়েরি খতিয়ে দেখে ধৃত চারজনের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়ে তাদের ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফের পুলিস হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সম্প্রতি শিয়ালদহে মুচিপাড়া থানা এলাকায় এক হিন্দিভাষী মালিকের মোবাইল ফোনের দোকানে বাংলা কথা বলার জন্য চার ছাত্রকে হকি স্টিক, লাঠি, বাঁশ প্রভৃতি দিয়ে মারধর করা হয়। তাতে চার ছাত্র জখম হলে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে মুচিপাড়া থানার পুলিস প্রথমে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তারা হল—ওই দোকানের মালিক ইমতিয়াজ আলি ও কর্মচারী দীপককুমার সাউ। পরে তাদের লাগাতার জেরা করে পুলিস কৃষ্ণ সাউ ও মহম্মদ হোসেন নামে আরও দু’জনকে পাকড়াও করে। এই ঘটনায় পুলিস ঘটনাস্থল ও তার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। অন্য অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। এই ঘটনায় যে লাঠি ব্যবহার করা হয়েছে তারও খোঁজ চালাচ্ছে পুলিস।



