Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রতারণার অভিযোগ তৃণমূলের প্রাক্তন শিক্ষক নেতাকে আটকে টাকা আদায়, চাঞ্চল্য

চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তোলা আদায়ের অভিযোগ। সেই অভিযোগ প্রায় ১৫ বছর আগের

প্রতারণার অভিযোগ তৃণমূলের প্রাক্তন শিক্ষক নেতাকে আটকে টাকা আদায়, চাঞ্চল্য
  • ১৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি:  চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তোলা আদায়ের অভিযোগ। সেই অভিযোগ প্রায় ১৫ বছর আগের। বুধবার অভিযুক্তকে কান্দিতে দেখতে পেয়ে চড়াও হন প্রতারিতরা। অভিযুক্ত আবার তৃণমূলের প্রাক্তন শিক্ষক নেতা। তাঁকে হেনস্তা করা হয়। আটকে রাখা হয় একটি ঘরে। কান্দি থানার পুলিস গিয়ে ওই শিক্ষক নেতাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে থানাতেই চাকরির দেওয়ার নামে নেওয়া টাকা ফেরত দিয়ে মুক্তি পান তিনি। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, ওই শিক্ষক নেতার নাম দিলীপ সিংহরায়। বহরমপুর শহরে বাড়ি। তিনি হাইস্কুলের শিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ছিলেন জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের জেলা সভাপতি। অভিযোগ, পদে থাকার সময় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা তুলেছেন। এদিন সকালে একটি গাড়ি করে কান্দি শহরে এসেছিলেন দিলীপবাবু। বেলা ১১টা নাগাদ পৌঁছন কান্দি বিএলআরও অফিসে। সেখানে দিলীপবাবুকে দেখা মাত্রই স্থানীয় কিছু লোকজন ধরে ফেলেন।  ধাক্কাধাক্কি করতে থাকেন। চাকরির টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানাতে থাকেন। ঠেলতে ঠেলতে কান্দি বিডিও অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। পুলিস এসে দিলীপবাবুকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানেও তিনঘণ্টা আটকে রাখা হয় তাঁকে। পরে একটি মুচলেকা সহ ৭০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে মুক্তি পান তিনি। দিলীপবাবু থানা থেকে বেরিয়ে উঠে পড়েন গাড়িতে। প্রতারিত মানিক শেখ বলেন, ‘২০১২ সালে দিলীপবাবু বেনিপুর এসেছিলেন। সেইসময় উনি আমাকে বলেছিলেন এখানকার এমএসকেতে তোমার চাকরি করে দেব। এরজন্য কিছু টাকা লাগবে। সেইমতো ৭০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম।’ গত পাঁচবছর ধরে ওঁর কোনও খোঁজ পাচ্ছিলাম না। এদিন ওই শিক্ষক নেতার কান্দি আসার কথা জানতে পেরে টাকা আদায়ের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।’
দিলীপবাবু অবশ্য বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ আমি মানছি না। যা বলার দলের জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলবেন।’ তবে, তৃণমূল বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থানই নিয়েছে। স্পষ্ট করে দিয়েছে প্রাক্তন শিক্ষক নেতার পাসে দল কোনওভাবেই নেই। অপূর্ববাবুর সাফ কথা, ‘মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিস্কার নির্দেশ রয়েছে, দুর্নীতির প্রশ্নে কোনওপ্রকার আপোস করা হবে না। কাউকেই রেয়াত করা হবে না। অভিযোগ থাকলে সোজা থানায় গিয়ে জানান। তিনি যত বড় মাপের নেতাই হোন না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিনের ঘটনাটি শুনেছি। এক্ষেত্রে দলের অবস্থান একই।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ