


নয়াদিল্লি: ‘অপারেশন সিন্দুরে’ নিহত জঙ্গিদের শেষকৃত্যে দেখা গিয়েছিল লস্কর-ই-তোইবার অন্যতম শীর্ষনেতা হাফিজ আব্দুল রাউফকে। আমেরিকা ঘোষিত এই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীর ছবিটি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। লাইভ টিভি সাক্ষাৎকারে এহেন জঙ্গিনেতার পরিচয় আড়াল করতে গিয়ে ফাঁপরে পড়লেন পাকিস্তানের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী হিনা রব্বানি খার। রাউফকে পাকিস্তানের একজন ‘সাধারণ মানুষ’ বলে দাবি করেন হিনা। তাঁর বক্তব্য ছিল, পাকিস্তানে লক্ষ লক্ষ হাফিজ আব্দুল রাউফ থাকে। তবে, উপস্থাপকের পেশ করা প্রমাণ ও ‘ফ্যাক্ট চেকে’র মুখে পড়ে অবশেষে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন প্রাক্তন পাক বিদেশমন্ত্রী।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জঙ্গিদের শেষকৃত্যে উপস্থিত রাউফের ভাইরাল ছবি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন হিনা রব্বানি। যদিও সেই ছবি হাতে ধরেই তাঁর দাবি ছিল, ‘গোটা বিশ্বের সামনে পাকিস্তান এবিষয়ে প্রমাণ পেশ করেছে। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, ভারত যার কথা বলছে এই ব্যক্তিটি সে নয়।’ উপস্থাপক পাল্টা বলেন, ‘আপনার বক্তব্যের সঙ্গে পাকিস্তান সেনার দেওয়া বিবৃতি মিলছে না। পাক সেনা বলছে, তিনি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। ওই ব্যক্তির ন্যাশনাল আইডি নম্বরও প্রকাশ করেছে সেনা। সেই আইডি নম্বর মিলে গিয়েছে আমেরিকার নিষিদ্ধ জঙ্গি তালিকায় নাম থাকা হাফিজ আব্দুল রাউফের আইডি নম্বরের সঙ্গে। তাই মার্কিন আন্তর্জাতিক জঙ্গি তালিকা মোকাবেক, ওই ব্যক্তি একজন সন্ত্রাসবাদী।’ উপস্থাপকের পেশ করা প্রমাণের মুখে পড়ে রীতিমতো ভাষা হারিয়ে ফেলেন হিনা রব্বানি। ছেঁদো যুক্তি দেখিয়ে বলার চেষ্টা করেন, ‘পাকিস্তানি সেনা ওই ব্যক্তিটির (ভাইরাল ছবি) পাশে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা ব্যক্তির পাশে দাঁড়ায়নি।’ তবে তাঁর এই যুক্তিহীন ব্যাখার চেষ্টায় আদতে পাকিস্তানের মিথ্যা বক্তব্যেই ফের প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।