Bartaman Logo
১৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

স্টিল প্রস্তুতকারক আর্সেলর-মিত্তলকে জাতীয়করণের দাবি, শোরগোল ফ্রান্সে

স্টিল প্রস্তুতকারক আর্সেলর-মিত্তলকে জাতীয়করণের দাবি, শোরগোল ফ্রান্সে
  • ১৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্যারিস: স্টিল নিয়ে সরগরম ইউরোপের রাজনীতি। আরও নির্দিষ্ট করে বললে ফ্রান্সের রাজনীতি। বিশ্বের দ্বিতীয় স্টিল প্রস্তুতকারক সংস্থা আর্সেলর-মিত্তলকে জাতীয়করণের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ফরাসি আইনপ্রণেতারা। কী কারণে এই পদক্ষেপ? জানা যাচ্ছে, চাকরির নিরাপত্তা, আরও বেশি পরিমাণে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ টানা এবং দেশের ‘শিল্প সার্বভৌমত্ব’ রক্ষা করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

জানা যাচ্ছে, গত কয়েক মাস ধরেই বিষয়টি নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। তারই শেষ পর্ব এই ভোটাভুটি। ইতিমধ্যে দু’বার ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদ এই প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে। যদিও এখনই তা আইনে পরিণত হচ্ছে না। কারণ, ফরাসি সরকার এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। সেনেটও একবার তা খারিজ করে দিয়েছে। পাশাপাশি, লক্ষ্মী মিত্তলের নিয়ন্ত্রণাধীন আর্সেলর-মিত্তলের তরফে জানানো হয়েছে, জাতীয়করণের মধ্যে দিয়ে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মূল সমস্যাগুলির কোনো সমাধান হবে না। এই বিতর্কটি আসলে কোনো একটি নির্দিষ্ট সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার থেকে অনেকটাই বড়ো।
আর্সেলর-মিত্তলকে জাতীয়করণের বিষয়টি নিয়ে এমপি অউরেলি ট্রুভের নেতৃত্বে প্রথম আসরে নামে বামপন্থী দল লা ফ্রান্স ইনসোমাইসের আইনপ্রণেতারা। তাঁদের দাবি ছিল, অন্যান্য শিল্পের সঙ্গে ইস্পাত শিল্পকে এক করে দেখলে চলবে না। কারণ, পরিকাঠামো নির্মাণ, রেল থেকে প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদন, ভারী শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার হয় ইস্পাত। আন্দোলনকারীদের মতে, ফ্রান্স যদি ইস্পাত তৈরির ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তাহলে তাদের বিদেশি সংস্থাগুলির মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে। এর পরেই আর্সেলর-মিত্তলের জাতীয়করণের বিষয়টি নিয়ে গত ১১ জুন ফের ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদে গত ভোটাভুটি হয়। পক্ষে পড়ে ১০৬টি ভোট। বিপক্ষে ৪৯টি। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে নিম্নকক্ষে এই প্রস্তাব পাশ হয়েছিল। কিন্তু এবছরের শুরুতে সেনেট তা বাতিল করে দেয়।  আর্সেলর-মিত্তলও জাতীয়করণের দাবি মানতে নারাজ। সংস্থার মতে, ইউরোপের ইস্পাত নির্মাতাদের কাছে সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ হল বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা, সস্তা আমদানি ও অপর্যাপ্ত বাণিজ্য সুরক্ষা। আর্সেলর-মিত্তলের মতে, মালিকানা পরিবর্তন করলেও এই সমস্যাগুলির মোকাবিলায় আদতে খুব একটা লাভ হবে না। তারা ইতিমধ্যে ফ্রান্সে বড়োমাপের বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ