Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

চার বছর পরেই পৃথিবী দেখতে পারে জোড়া সূর্য! বিরল গবেষণায় বড় সাফল্য

প্রাণের উৎস সূর্য। সৌরশক্তিকে কী কী ভাবে আরো কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে নিরন্তন গবেষণা চলছে বিশ্বজুড়ে। তবে চীন যেন বাকিদের থেকে আরো কয়েক কদম এগিয়ে। সূর্যকে পৃথিবীতেই প্রতিস্থাপন করতে চাইছে শি জিংপিংয়ের দেশ।

চার বছর পরেই পৃথিবী দেখতে পারে জোড়া সূর্য! বিরল গবেষণায় বড় সাফল্য
  • ২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৬:২২
Prefer us on Google

বেজিং, ২৮ জুলাই:  প্রাণের উৎস সূর্য। সৌরশক্তিকে কী কী ভাবে আরো কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে নিরন্তন গবেষণা চলছে বিশ্বজুড়ে। তবে চীন যেন বাকিদের থেকে আরো কয়েক কদম এগিয়ে। সূর্যকে পৃথিবীতেই প্রতিস্থাপন করতে চাইছে শি জিংপিংয়ের দেশ। এবং তার প্রাথমিক সাফল্যও দাবি করেছে তারা। এই কৃত্রিম সূর্যর নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৃহৎ সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট ইতিমধ্যেই তৈরি করে ফেলেছে চীনের বিজ্ঞানীরা। 

Advertisement

চীনা বিজ্ঞান আকাডেমির ইনস্টিটিউট অব প্লাজমা ফিজিক্স এই বিশালাকার চুম্বক তৈরি করেছে। যার  দৈর্ঘ্য ২১ মিটার, প্রস্থ ১২ মিটার। ওজন প্রায় ৫৮২ টন। এত বড় সুপারকন্ডাক্টিং চুম্বকের মূল কাজ হল অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রার প্লাজমাকে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা। গবেষকদের দাবি, এটি এখনও পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে বড় ফিউশন রিঅ্যাক্টর সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট। যা প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্লাজমাকে রিঅ্যাক্টরের দেয়ালে স্পর্শ করতে বাধা দেয়। এবং সম্পূর্ণ ক্ষেত্রটিকে নিরাপদে রাখে। 

কৃত্রিম সূর্য মূলত এমন একটি ফিউশন রিঅ্যাক্টর, যেখানে সূর্যের মতোই হাইড্রোজেন পরমাণুর সংযোজন ঘটিয়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় তাপমাত্রা ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি পৌঁছে যায়। তবে এতে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হয় না। ফলে ভবিষ্যতের পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানির অন্যতম সম্ভাব্য উৎস হিসেবে ফিউশন প্রযুক্তিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে চীন। 

ইতিমধ্যেই চীন তাদের এই 'কৃত্রিম সূর্য' নিয়ে এক গবেষনা যার পোশাকি নাম এক্সপেরিমেন্টাল অ্যাডভান্সড সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক যার মাধ্যমে ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় টানা ১,০৬৬ সেকেন্ড প্লাজমাকে ধরে রেখে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যে এই সমস্ত প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে গবেষকরা। এরপর ২০৩০ সালে প্রথমবারের মতো ফিউশন প্রযুক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে দেশটির। ভবিষ্যতে চায়না ফিউশন ইঞ্জিনিয়ারিং ডেমোনস্ট্রেশন রিঅ্যাক্টর নির্মানের মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম নিউক্লিয়ার ফিউশন ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনেরও পরিকল্পনা করেছে বেজিং। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ