


অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: ‘স্যার, আমার বাড়িতে কেউটে ঢুকেছে তাড়াতাড়ি আসুন’! স্নেকক্যাচার নিয়ে নাভিশ্বাসে দৌড়চ্ছেন বনকর্মীরা। কেউ আবার ফোন করে বলছেন, ‘বাড়িতে ঢুকে পড়েছে ভাম, গোসাপ! কোথাও আবার জখম হয়ে কাতরাচ্ছে হনুমান, মেছো বিড়াল, পাখি! কখনও আবার বিমাবন্দরের ভিতর দৌড়চ্ছে খেঁকশিয়াল! কলকাতা, সল্টলেক থেকে নিউটাউন। এই চিত্র প্রতিদিনের। রোজই কোথাও না কোথাও উদ্ধার হচ্ছে সুস্থ ও অসুস্থ বন্যপ্রাণী। চিকিৎসার পর জখম প্রাণীদের ছাড়া হয় তাদের বাসযোগ্য স্থানে। তবে, বন্যপ্রাণী উদ্ধারেই দায়িত্ব শেষ নয়, অনেকসময় বন্যপ্রাণীর সঙ্গে উদ্ধার হয় হচ্ছে তাদের ডিমও। সেগুলিও যাতে নষ্ট না- হয়, তাই বন্যপ্রাণীর ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে তুলছে বনদপ্তর। তারপর সেই শাবকদের ছাড়া হচ্ছে প্রকৃতিতে। এমনই অভিনব প্রয়াস নেওয়া হয়েছে সল্টলেকের ‘ওয়াইল্ড অ্যানিম্যাল রেসকিউ অ্যান্ড ট্রানজিট ফেসিলিটি সেন্টার রেঞ্জ’ অফিসে। বনদপ্তরের এই প্রচেষ্টায় খুশি প্রকৃতিপ্রেমীরা।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকমাস আগে একটি গোসাপ উদ্ধার করার পর তার কিছু ডিম পাওয়া গিয়েছিল। বনদপ্তরের কর্মীরা গোসাপের সঙ্গে সেই ডিম নিয়ে এসেছিলেন সল্টলেকের ওয়াইল্ড অ্যানিম্যাল রেসকিউ অ্যান্ড ট্রানজিট ফেসিলিটি সেন্টার রেঞ্জ অফিস তথা রেসকিউ সেন্টারে। সেগুলি ফেলে না রেখে বাচ্চা ফোটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বালির মোটা স্তরের উপর যত্ন করে পরপর রাখা হয় সেই ডিম। উপরে জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছিল ওয়ার্ম আলো। কিছুদিন পরই ডিমের উপরের অংশ নড়তে থাকে। তারপর একটি হঠৎ খোলস ফুঁড়ে মাথা তুলে বেরিয়ে আসে একদল শাবক। সেগুলিকে খাইয়ে একটু বড় করার পর জঙ্গলে ছাড়া হয়েছে।
তারপর আবার একইভাবে বাচ্চা হয়েছে। শুধুই কি গোসাপ? কেউটের ডিম থেকেও নাকি বেরিয়ে এসেছে শাবক! এমনকী, বাচ্চা ফোটানো সম্ভব হয়েছে, কচ্ছপের ডিম থেকেও। নতুন সদস্যদের দেখে খুশি বনদপ্তরের কর্মীরাও। এক আধিকারিক বলেন, ডিম পাওয়া গেলে এটা প্রায়ই করা হচ্ছে। আমরা আবার করব। একাধিকবার সফলতা মিলেছে। আমরা চাই, বন্যপ্রাণীরাও প্রকৃতিতে সুস্থভাবে বিচরণ করুক। বাস্তুতন্ত্র রক্ষার সঙ্গে তাদেরও ভারসাম্য বজায় থাকুক।