Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

শীতে পায়ের যত্ন

শীতের শুরুতেই খেয়াল রাখুন পায়ের। পায়ের গোড়ালি ফেটে যাওয়া, পায়ের চামড়ায় টান ইত্যাদি শীতের বড়ই বালাই। কিন্তু সারাবছর সচেতন থাকলে এবং শীতে একটু বাড়তি যত্ন নিলে এই সমস্যার অনায়াস সমাধান সম্ভব। কসমেটোলজিস্ট রেশমা বানু জানালেন কয়েকটি সহজ ও ঘরোয়া পদ্ধতির কথা। এমন কিছু নিয়ম যা বাড়িতে সহজেই পালন করা যায় এবং যা করলে পায়ের ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল থাকে।

শীতে  পায়ের যত্ন
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শীত মানেই পা ফেটে যাওয়ার সমস্যা। এই সময় কেমন দেখভাল জরুরি? জানালেন কসমেটোলজিস্ট রেশমা বানু।

Advertisement

শীতের শুরুতেই খেয়াল রাখুন পায়ের। পায়ের গোড়ালি ফেটে যাওয়া, পায়ের চামড়ায় টান ইত্যাদি শীতের বড়ই বালাই। কিন্তু সারাবছর সচেতন থাকলে এবং শীতে একটু বাড়তি যত্ন নিলে এই সমস্যার অনায়াস সমাধান সম্ভব। কসমেটোলজিস্ট রেশমা বানু জানালেন কয়েকটি সহজ ও ঘরোয়া পদ্ধতির কথা। এমন কিছু নিয়ম যা বাড়িতে সহজেই পালন করা যায় এবং যা করলে পায়ের ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল থাকে। 
কেন যত্নের দরকার
আমাদের সারা শরীরের মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত হয় পদযুগল। আমরা মুখের বা হাতের যত্ন নিতে যত সময় ব্যয় করি তার অর্ধেকও পায়ের জন্য করি না। শীতে এমনিতেই সারা শরীরে টান ধরে। ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে আর্দ্রতার প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে মুখ বা হাতের পাশাপাশি পায়ের চামড়ারও দেখভাল দরকার। তাছাড়া শীতে প্রচুর বিয়েবাড়িও থাকে। সাজগোজ করে পা যদি ফাটা থেকে যায় তাহলে দেখতেও খারাপ লাগবে। এইসব কথা ভেবেই শীতে পায়ের বিশেষ যত্ন নেওয়ার কথা বলা হয়। গরমকালে বাতাসে স্বাভাবিক আর্দ্রতা বেশি থাকে বলে পায়ের গোড়ালি ফেটে যাওয়া বা ত্বক বিশ্রী লাগার সম্ভাবনা কম। কিন্তু শীতে ত্বকে টান ধরে, ত্বক শুকিয়ে যায়, এইসব কারণেই শীতে পায়ের বিশেষ যত্নের দরকার পড়ে।
কীভাবে নেবেন যত্ন
প্রথমত একটা মোলায়েম বডি ওয়াশ ব্যবহার করে রোজ পা পরিষ্কার করে নিতে হবে। তারপর তা খুব  যত্ন নিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। ধোয়ার সময় খেয়াল রাখা দরকার যেন কোনও সাবান থেকে না যায়। সাবান থেকে গেলে পরে তা থেকে সংক্রমণ হতে পারে। পা ধোয়ার পরের ধাপ হল পা শুকনো করে মুছে নেওয়া। কারণ পায়ে জল লেগে থাকলে তা থেকেও চামড়ার ক্ষতি হয়। অনেক সময় শুকিয়ে যাওয়া সাবান বা জল থেকে পায়ে ফাংগাল ইনফেকশন হতে পারে। তাই ভালো করে ধুয়ে নেওয়া এবং ধোয়ার পর তা শুকনো করে মোছা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে পা ধোয়ার সময় প্রয়োজনে গরম জলও ব্যবহার করা যেতে পারে। পায়ের আরাম হবে তাতে। তবে জল যেন খুব গরম না হয় সেটাও দেখা দরকার। উষ্ণ গরম জলই পায়ের দেখভালের জন্য সবচেয়ে ভালো। 
এক্সফলিয়েশন
এটা পায়ের ত্বকের পক্ষে খুবই ভালো। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার করাই যথেষ্ট। এর জন্য কোনও পার্লার বা স্যালোঁতে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই। বাড়িতে ঘরোয়া পদ্ধতিতেই করা যায়। তার জন্য একটু উষ্ণ গরম জল নিন। তাতে মেশান মাইল্ড কোনও শ্যাম্পু। তার সঙ্গে অল্প একটু অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। এবং শেষে মেশান একটু নুন। এক্ষেত্রে যদি এপসম সল্ট ব্যবহার করা যায় তো সবচেয়ে ভালো কাজ হবে, রাতে ঘুমও ভালো হবে। এই সলিউশনে পা মোটামুটি পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে। এরপর একটা নরম ব্রাশ দিয়ে বা পিউমিস স্টোন দিয়ে পায়ের ফাটা অংশ পরিষ্কার করে নিতে হবে। হালকা হাতে ঘষে নিলেই পা পরিষ্কার হয়ে যাবে। এতে পায়ের পাতা নরম থাকবে।
ময়েশ্চারাইজ করা জরুরি
পা ভালো রাখতে হলে শুধুই যে তা পরিষ্কার করাই যথেষ্ট তা-ই নয়, তা ময়েশ্চারাইজ করাও দরকার। সঠিকভাবে ময়েশ্চারাইজ করে রাখতে হবে পায়ের ত্বক। তার জন্য যদি কারও কাছে পেট্রলিয়াম জেলি থাকে তাহলে সেটাই মোটা করে পায়ে মেখে নিতে হবে। যাঁদের বাড়িতে অলিভ অয়েল আছে তাঁরা সেটাই মেখে নেবেন পায়ে। এছাড়া একটা মেডিকেটেড ময়েশ্চারাইজার হয়, তাতে ২০ শতাংশ ইউরিয়া থাকে। সেটাও পায়ের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এগুলো পায়ের ত্বক নরম ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করবে। ফলে তা দিয়ে পায়ের মাসাজ করে নিলেই পা সুন্দর থাকবে। মোটামুটি দশ মিনিট মাসাজ করার পর পায়ে একটা সুতির মোজা পরে নিন। তাতে এই ক্রিম বা তেল পায়ের চামড়ার সঙ্গে পুরোপুরি মিশে যাবে। এইভাবে ময়েশ্চারাইজিংও সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার করাই যথেষ্ট। 
হিল পিল-এর কাজ
যাঁদের হাতে সময় কম তাঁরা পা থেকে এই মৃত কোষ তুলে ফেলার প্রক্রিয়াটা বাড়িতে না করে পার্লারে গিয়ে হিল পিল-এর সাহায্যেও করতে পারেন। এতেও কাজ একই হবে। ত্বকের মৃত কোষ দূর হবে। ত্বক নরম ও উজ্জ্বল হবে।  হিল পিল মাসে একবার লাগানোই যথেষ্ট। কিন্তু হিল পিল যদি লাগান, তাহলেও ময়েশ্চারাইজ করুন নিয়মমতো। নাহলে কিন্তু হিল পিল কোনও কাজ করবে না। 
শীতকালে অন্তত রোজই রাতে একটু শিয়া বাটার, অলিভ অয়েল বা পেট্রলিয়াম জেলি দিয়ে পা ময়েশ্চারাইজ করে তবেই শুতে যাবেন। তাহলে পায়ের ত্বক নরম ও উজ্জ্বল থাকবে। গোড়ালি ফাটার সমস্যা থেকেও মুক্তি পাবেন অনায়াসে। 
কমলিনী চক্রবর্তী

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ