সংবাদদাতা, কালনা: বাবা মাছ ধরে বিক্রি করে দিনে চার-পাঁচশো টাকা রোজগার করেন। তাতেই কোনওমতে সংসার চলে। তাই ছেলে সোহমকে মামার বাড়িতে রেখে এসেছিলেন পড়াশোনা করার জন্য। মামার বাড়িও যে অবস্থাপন্ন তা নয়। বেড়ার ঘর। সম্প্রতি সোহমের দিদিমার নামে সরকারি বাড়ি পাওয়া গিয়েছে। সেই সোহমই মাধ্যমিকে ৯২ শতাংশ অর্থাৎ ৬৪২ নম্বর পেয়ে চমকে দিয়েছে সকলকে। সোহমের এই সাফল্যে খুব খুশি তার বাবা-মা, মামা ও স্কুল শিক্ষকরা। মাধ্যমিকে তিন গৃহশিক্ষক যৎসামান্য অর্থের বিনিময়ে সোহমকে পড়িয়েছিলেন। কৃষ্ণদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীরাও সোহমের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখে কালনা কৃষ্ণদেবপুর পঞ্চায়েতের রাজবংশীপাড়ার বাসিন্দা সোহম। কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে প্রয়োজন অর্থের। সেই অর্থ কোথা থেকে জোগাড় হবে সেই চিন্তায় ঘুম উড়েছে সোহম ও তার পরিবারের সকলের। সোহমের মা অরুণা হালদার বলেন, আজ যেটুকু সাফল্য এসেছে তার জন্য গৃহশিক্ষক ও স্কুলের শিক্ষকদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। ওর বাবার আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। ভালো খাবার দিতে পারি না ছেলেকে। ওর মামা ও পিসিরা সাহায্য করে। আগামী দিনে ওর উচ্চশিক্ষা নিয়ে আমরা কীভাবে কতটুকু সাহায্য করতে পারব জানি না। সোহম বলে, আমার এই সাফল্যের জন্য গৃহশিক্ষক ও স্কুলের শিক্ষকদের কাজে কৃতজ্ঞ। বন্ধুরাও আমাকে নোটস দিয়ে সাহায্য করেছে। ওদের থেকে নোট চেয়ে এনে জেরক্স করে পড়াশোনা করেছি। দিনে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা পড়তাম। উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান নিয়ে ড়ে ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চাই। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুজিত বরণ মুখোপাধ্যায় বলেন, ও খুবই মেধাবী। একবার কোনও কিছু বুঝিয়ে দিলে চট করে বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অনেকটাই দুর্বল। আমরা আশাবাদী আগামী দিনেও ও সফল হবে। যদি কেউ ওর পড়াশোনার আর্থিক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসে তবে খুব ভালো হয়।



