সংবাদদাতা, ডোমকল: গত কয়েকমাসে ডোমকল মহকুমার সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্ধার হয়েছে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র। হাতেনাতে ওই সব আগ্নেয়াস্ত্র সহ একাধিকবার পুলিসের জালে উঠেছে মালদহের অস্ত্রের কারবারিরা। ডোমকল মহকুমার সীমান্ত এলাকাগুলিতে আগ্নেয়াস্ত্রের জোগানদার হয়ে উঠেছে মালদহের অস্ত্র কারবারিরা। অর্ডার দিলেই তারা আগ্নেয়াস্ত্রের ডেলিভারি পৌঁছে দিচ্ছে ক্রেতাদের দুয়ারে।
প্রসঙ্গত, গত ২ মে জলঙ্গির সাহেবরামপুরে অভিযান চালিয়ে ৪টি পিস্তল, ৮টি ম্যাগাজিন, ৩০ রাউন্ড কার্তুজ সহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছিল জলঙ্গি থানা পুলিস ও এসওজি’র যৌথ দল। তারা জলঙ্গির এক দুষ্কৃতীর কাছে ওই আগ্নেয়াস্ত্রের ডেলিভারি দিতে এসেছিল। তাদের দু’জনের বাড়িই ছিল মালদহের বৈষ্ণবনগরে। পুলিসি জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা জানিয়েছিল, তারা ক্যারিয়ার হিসেবে ওই অস্ত্রের ডেলিভারি দিতে এসেছিল। তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় ওই অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার বরাত দেওয়া ছিল। তবে শুধু ওই ঘটনা নয়, গত ফেব্রুয়ারিতে ঠিক একইভাবে অস্ত্র সহ সাগরপাড়া থানা পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল মালদহের এক অস্ত্র কারবারি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে সাগরপাড়ার শিরোচরে হানা দিয়ে একটি দেশি পিস্তল সহ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস। পুলিসি জিজ্ঞাসার মুখে সেও জানিয়েছিল ওই অস্ত্র সে সাগরপাড়ার এক দুষ্কৃতীর কাছে বিক্রি করতে এসেছিল।
পুলিসের একটি বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, গত কয়েকমাসে ডোমকল মহকুমা এলাকায় উদ্ধার হওয়া বেশিরভাগ পিস্তলই বিহারের মুঙ্গেরের তৈরি। মুঙ্গের থেকে তৈরি হয়ে চলে আসছে মালদহের অস্ত্র কারবারিদের হাতে। এরপর মালদহ থেকে ওই অস্ত্র ঢুকছে ডোমকলে। মালদহের কারবারিরাও এখন অস্ত্রের জোগানদার হয়ে উঠেছে। তারাই এখন অস্ত্র সরবরাহের অর্ডার নিচ্ছে। এরপর অর্ডার অনুযায়ী অস্ত্র ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দিতে রওনা দিচ্ছে ক্যারিয়াররা। যাত্রাপথে সন্দেহ এড়াতে বেশিরভাগ সময়েই যাত্রীবাহী বাস কিংবা অন্যান্য যানবাহনে করে আসছে। গত ২ মে জলঙ্গিতে গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই কারবারিও ঠিক একইভাবে যাত্রী সেজে নাইলনের ব্যাগের মধ্যে অস্ত্র লুকিয়ে তার উপরে পোশাক দিয়ে ঢেকে জলঙ্গিতে ঢুকেছিল।
পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, গত কয়েকমাসে চীনের আদলে মুঙ্গেরের তৈরি সেমি অটোমেটিক পিস্তল ডোমকল মহকুমায় উদ্ধার হয়েছে। ওইসব ক্ষেত্রেও মালদহের অস্ত্র কারবারিদের যোগ পাওয়া গিয়েছে। সম্প্রতি জলঙ্গিতেও একই রকম পিস্তল সহ মালদহের দু’জন গ্রেপ্তার হয়েছিল। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি আমাদেরও নজরে এসেছে। জলঙ্গিতে গ্রেপ্তার হওয়া ওই দু’জন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছিল, তারা শুধুমাত্র ওই অস্ত্র পৌঁছে দিতে এসেছিল। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।