সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: দিনে দুপুরে ভারত-নেপাল সীমান্ত পানিট্যাঙ্কি সংলগ্ন এলাকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন আকাশ দেখে আঁতকে ওঠেন পথচারীরা। এমনটা কেন? তা জানতে উৎস সন্ধানে নামতেই দেখা গেল দাউ দাউ করে পুড়ছে জঙ্গলের শুকনো পাতা, ডালপালা। আর এতে ঘাবড়ে যান সকলে। সোমবার ঘটনাটি ঘটে পানিট্যাঙ্কির কাছে টুকরিয়াঝাড় বনাঞ্চলে। খবর পাওয়া মাত্র টুকরিয়াঝাড় রেঞ্জের বনকর্মীরা আগুন নেভাতে ময়দানে নামেন। নকশালবাড়ি দমকল স্টেশন থেকে ইঞ্জিন চলে আসে। এমনকী নকশালবাড়ি থানার পুলিস, পানিট্যাঙ্কি ফাঁড়ি ও খড়িবাড়ি ট্রাফিক কর্মীরাও জঙ্গলের আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন।
পাশ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দারাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কারণ জঙ্গল ঘেঁষেই রয়েছে একাধিক বনবস্তি। আগুন না নিভলে গোটা গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে। এজন্য চলে যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজ। একেই পর্ণমোচীর মরশুম। চতুর্দিকে পড়ে আছে শুকনো পাতা। ফলে আগুন দ্রুত ছড়াতে থাকে। আর যা সামাল দিতে যথেষ্ট বেগ পেতে হল দমকল কর্মীদের।
বেলা ১২টায় জঙ্গলে আগুন লাগে। প্রায় ৪ ঘণ্টার চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণ করতে সফল হন দমকল কর্মীরা। ততক্ষণে জঙ্গলের প্রায় দুই হেক্টর এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে সেগুন, শাল গাছ সহ অসংখ্য ছোট ছোট বন্য জীবজন্তুর ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা বনবিভাগের। শুধু টুকরিয়াঝাড় বনাঞ্চলে নয়, এদিনই কার্শিয়াং ডিভিশনের আরও দু’টি জঙ্গলে আগুন ধরে বলে জানান কার্শিয়াংয়ের ডিএফও দেবেশ পান্ডে।
ডিএফও বলেন, বাগডোগরা বনাঞ্চলে প্রায় দুই হেক্টর এলাকায় এবং সেভকের জঙ্গলে প্রায় চার হেক্টর এলাকায় আগুন ধরেছে। যা সামাল দিতে যথেষ্ট বেগ পেতে হল বনকর্মীদের। যদিও তিনটি এলাকার আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সমতল, জনবসতি সংলগ্ন এলাকার জঙ্গলে আগুনের খবর পাওয়া গেলেও পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকার জঙ্গলের আগুন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংকেত পাওয়া যায়। ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আগুন ধরিয়ে দেয়। কিংবা অসতর্কতার জেরে আগুন লাগে। বিশেষ করে জনবসতি কিংবা রাস্তা সংলগ্ন বনাঞ্চলে আগুন লাগছে। এনিয়ে বারংবার বনবিভাগ সচেতনতা প্রচার চালাচ্ছে। এদিনের ঘটনাগুলি নিয়ে আমরা উপর মহলে রিপোর্ট পাঠাচ্ছি। নিজস্ব চিত্র।