Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়ার ‘আমাজন’ সুতানের জঙ্গলে ফের আগুন, চাঞ্চল্য

ফের আগুন পুড়ে খাঁক হয়ে গেল বাঁকুড়ার ‘আমাজন’ বলে পরিচিত সুতানের জঙ্গল

বাঁকুড়ার ‘আমাজন’ সুতানের জঙ্গলে ফের আগুন, চাঞ্চল্য
  • ১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ফের আগুন পুড়ে খাঁক হয়ে গেল বাঁকুড়ার ‘আমাজন’ বলে পরিচিত সুতানের জঙ্গল। রবি ও সোমবার পরপর দু’দিন জেলার অন্যতম ওই পর্যটন কেন্দ্রের জঙ্গলে আগুন লাগে। বিস্তীর্ণ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের জেরে গাছপালার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। যদিও বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে বনদপ্তর দাবি করেছে। তবে দু’হেক্টর জঙ্গল পুড়ে গিয়েছে বলে বনদপ্তরের কর্তারা স্বীকার করে নিয়েছেন। 

Advertisement

উল্লেখ্য, মাসখানেক আগে রানিবাঁধ রেঞ্জ এলাকার ওই জঙ্গলে আগুন লেগেছিল। সেবারও আগুনে বেশ কিছুটা বনভূমি পুড়ে যায়। অন্যান্য বন্য জীবজন্তুর পাশাপাশি রানিবাঁধের জঙ্গলে সম্প্রতি ওড়িশার সিমলিপাল অভয়ারণ্যের বাঘিনি জিনাত ও ঝাড়খণ্ডের দলমা রেঞ্জ থেকে আসা একটি পুরুষ বাঘ ঘাঁটি গেড়েছিল। তারপর থেকেই ওই এলাকার জঙ্গল ‘অতি স্পর্শকাতর’ হিসেবে পরিচিত। ওই এলাকার জঙ্গল সর্বদা বনদপ্তরের র‌্যাডারেও রয়েছে। ওই রকম ‘হাই প্রোফাইল’ জঙ্গলে পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।     
বাঁকুড়া দক্ষিণের ডিএফও প্রদীপ বাউরি বলেন, দু’দিন পরপর সুতানের জঙ্গলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন প্রায় দু’হেক্টর বনভূমি পুড়ে গিয়েছে। দু’দিনই বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আধিকারিকরাও এলাকায় গিয়েছিলেন। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
তিনি আরও বলেন, সবসময় যে ইচ্ছাকৃতভাবে জঙ্গলে আগুন লাগানো হয়, তা নয়। অনেক সময় জঙ্গলের রাস্তা ধরে যাওয়া লোকজন বিড়ি, সিগারেট ধরানোর পর অসাবধানতাবশত জ্বলন্ত দেশলাই কাঠি ছুড়ে ফেলে দেন। কেউ কেউ আবার প্রকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে জঙ্গলে ধূমপান করেন। বিড়ির অবশিষ্টাংশ শুকনো লতাপাতার উপর ফেলে দেওয়ার কারণেও আগুন ধরে যায়। বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেনতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছি। বনকর্মীরা অঞ্চলস্তরে প্রচার করছেন। বনসুরক্ষা কমিটির লোকজনকেও এব্যাপারে কাজে লাগানো হচ্ছে। কেবল অপারেটর সংস্থার কর্মী প্রশান্ত রজক বলেন, এদিন সকালে আমি কেবল তার জুড়তে জঙ্গলে গিয়েছিলাম। সেখানে আগুন জ্বলতে দেখি। আগুনের ভয়ে জঙ্গলে ঢুকতে সাহস পাইনি। আগুনে গাছপালা ভষ্মীভূত হয়ে গিয়েছে।  
স্থানীয় ভুলাগাড়া গ্রামের বাসিন্দা নিমাই সর্দার বলেন, বারবার আমাদের এলাকার জঙ্গলে আগুন লাগছে। কেউ বা কারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। এদিন দাউ দাউ করে দীর্ঘক্ষণ আগুন জ্বললেও বনদপ্তরের কর্মী-আধিকারিকদের এলাকায় দেখা যায়নি।
বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, উদাসীনতার অভিযোগ ঠিক নয়। যে কোনও এলাকায় আগুন লাগলেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি আনা হয়। আমাদের উপরেও চাপ থাকে। ফলে যত দ্রুত সম্ভব আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা রাতদিন এক করে কাজ করি। আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে কর্মীদের কোনও গড়িমসি বরদাস্ত করা হয় না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ