নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দাখিল করেছিলেন ভুয়ো এসসি সার্টিফিকেট। তাই নিয়ে পাঁচবছর ডাক্তারির পঠনপাঠনও চালিয়েছেন। সম্পূর্ণ করেছেন ইনটার্নশিপ। ক’দিনের মধ্যেই পেয়ে যেতেন স্থায়ী রেজিস্ট্রেশনও। এমন সময় ভুয়ো সার্টিফিকেটের কথা জানাজানি হওয়ায় ডাক্তার হওয়া বাতিল হল মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক জুনিয়র চিকিৎসকের। তাঁর নাম প্রিয়ান্তি বিশ্বাস। বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনায় অশোকনগর থানা এলাকার গুমা শান্তিনগরে।
২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর তাঁর নামে এসটি শংসাপত্র তৈরি হয়। ওই চিকিৎসক-ছাত্রীর বিরুদ্ধে মাসখানেক আগে স্বাস্থ্যদপ্তরসহ রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ জমা পড়ে। প্রধান অভিযোগ ছিল, বাংলাদেশ থেকে রাজ্যে এসে নাম ভাঁড়িয়ে ভুয়ো এসসি সার্টিফিকেট তৈরি করার। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনগ্রসর ও আদিবাসী শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর তদন্ত করে। এমাসের মাঝামাঝি সময় বাতিল করা হয় ওই ছাত্রীর এসসি সার্টিফিকেটও। বারাসতের মহকুমা শাসক বিষয়টি রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত স্তরে জানান।
কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, তাই যদি সত্যি হয়, কীভাবে ভুয়ো এসসি সার্টিফিকেট নিয়ে এমবিবিএস পড়াশোনাটাই শেষ করে ফেলতে পারলেন এক ছাত্রী? পাঁচবছর আগে ওই ছাত্রীর ভর্তির সময় যাঁরা কাগজপত্র যাচাইয়ের কাজে যুক্ত ছিলেন, তাঁরা কী করছিলেন? কারণ, গোটা বিষয়টি জানাজানি হয়েছে ওই ছাত্রীর এমবিবিএস পঠনপাঠন শেষ হওয়ার পর। এমনকী তারপর অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশন নম্বরও (প্রভিশনাল রেজিস্ট্রেশন) পেয়ে যান ওই ছাত্রী। ইনটার্নশিপ শেষ করে শিশু বিভাগে হাউসস্টাফশিপ শুরুও করে দেন তিনি। এরপর তাঁর চূড়ান্ত বা ফাইনাল রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার কথা ছিল। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি ডাঃ সুদীপ্ত রায় বলেন, মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ওই ছাত্রীর বৃত্তান্ত আমাদের জানিয়েছে। তিনি স্থায়ী রেজিস্ট্রশন পাননি। আমরা তা দেবও না। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ অমিত দাঁ বলেন, ওই ছাত্রীর এসসি সার্টিফিকেট ভুয়ো বলে আমরা জানতে পেরেছি। সেইমতো তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সূত্রের খবর, স্বাস্থ্যদপ্তর এই ঘটনায় জালিয়াতির অভিযোগ জানিয়ে পুলিসে এফআইআর করেছে। প্রসঙ্গত, এই নিয়ে একের পর এক মেডিক্যাল পড়ুয়ার বিরুদ্ধে জাল এসসি-এসটি নথিপত্র জমা দিয়ে ডাক্তারিতে ভর্তির অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে এই ধরনের ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইও।