নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। বাড়ি, রাস্তা, সেতু, চাষের জমি, বনাঞ্চল, অভয়ারণ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে ভুটান থেকে আসা নদীর জল ও ভূমি ধ্বসের ফলে। যেখানে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পরেও কেন্দ্রের তরফে রাজ্যের দিকে কোনও আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়ানো হয়নি বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় এলাকা পুনর্গঠনের জন্য গত ১৪ অক্টোবর রাজ্য সরকারের তরফে বিজ্ঞাপন দিয়ে আবেদন করা হয়েছে, সাধারণ মানুষ সাধ্য মতো সহযোগিতা করতে পারেন। ওয়েস্টবেঙ্গল স্টেট ডিজাসটার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি ফান্ড তৈরি হয়েছে। বেসরকারি একটি ব্যাংকের নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে আমজনতা আর্থিক সহযোগিতা করতে পারেন। ইতিমধ্যে ওই অ্যাকাউন্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং পাঁচ লক্ষ টাকা প্রদান করেছেন। এছাড়াও সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রদান করেছেন এক লক্ষ টাকা। এছাড়াও রাজ্যের মন্ত্রী এবং তৃণমূলের সাংসদ ও বিধায়করা নিজেদের মতো করে ওই অ্যাকাউন্টে অর্থ সাহায্য করছেন। তবে উত্তর ২৪ পরগনার তৃণমূল বারাসত সাংগঠনিক জেলার পক্ষ থেকে আলাদা একটি অ্যাকাউন্ট মারফত কর্মী-সমর্থকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। মধ্যমগ্রামে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট রয়েছে। যে অ্যাকাউন্টের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার, বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায় ও পুরপ্রধান নিমাইচন্দ্র ঘোষ। মধ্যমগ্রামের ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা অর্থ সহযোগিতা করছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সরাসরি অর্থ পাঠাতে ‘ভায়া’ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কেন, তা নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। বারাসত তৃণমূলের আলাদা অ্যাকাউন্ট কেন? এ বিষয়ে বারাসত সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি কাকলি ঘোষদস্তিদার বলেন, ওই অ্যাকাউন্টটি অনেক পুরনো। আমি সভাপতি হওয়ার পর ওই অ্যাকাউন্টটি তৈরি। আমার কাছে অনেকেই আবেদন করেছিলেন, তাঁরা রাজ্য সরকারের ডিজাস্টার তহবিলে অর্থ সহযোগিতা করতে চান। কী পদ্ধতিতে অর্থ প্রদান করবেন, সেটা অনেকে বুঝতে পারছিলেন না। জেলার ওই অ্যাকাউন্টটিতে অনেকে অর্থ প্রদান করছেন। সেটা একত্রিত করে রাজ্য সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে। পুরোটাই হচ্ছে স্বচ্ছতা বজায় রেখে।



