সংবাদদাতা, লালবাগ: বাবা পরিযায়ী শ্রমিক। নুন আনতে পান্তা ফুরনো সংসার। ইটের তৈরি দুই কামরার বাড়ি। উপরে টিন ও টালির ছাউনি। দারিদ্র্যের ছাপ সর্বত্র স্পষ্ট। তা সত্ত্বেও একাগ্রতা, অধ্যবসায় ও লক্ষ্যে স্থির থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় নজরকাড়া রেজাল্ট করেছে লালগোলার কৃষ্ণপুরের সাকিবুর রহমান। লালগোলা এম এন অ্যাকাডেমির এই কৃতী ছাত্রের প্রাপ্ত নম্বর ৬৪১ অর্থাৎ ৯১.৫৭ শতাংশ। সাকিবুরের বিষয়ভিত্তিক প্রাপ্ত নম্বর বাংলায় ৯৪, ইংরেজিতে ৮৭, অঙ্কে ৮৬, ভৌতবিজ্ঞানে ৯৩, জীবনবিজ্ঞানে ৯১, ইতিহাসে ৯৪ এবং ভূগোলে ৯৬। দুঃস্থ পরিবারের সাকিবুরের সাফল্যে খুশির হাওয়া প্রতিবেশী থেকে কৃষ্ণপুর গ্রামজুড়ে। রেজাল্ট বেরনোর পর থেকেই আত্মীয় পরিজন, প্রতিবেশীরা এসে সাকিবুরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে যাচ্ছেন। বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চায় কৃষ্ণপুরের এই কৃতী ছাত্র। কিন্তু কীভাবে ছেলেকে তার লক্ষ্যে পৌছে দেওয়া যাবে, তা ভেবেই কূলকিনারা পাচ্ছেন না বাবা-মা। লালগোলা থানার কৃষ্ণপুরের বাসিন্দা মনিরুল শেখ পেশায় রাজমিস্ত্রি। রুজিরুটির টানে বছরের বেশিরভাগ সময় তাঁকে কখনও ভিনরাজ্যে, আবার কখনও মধ্য এশিয়ার দেশে থাকতে হয়। মনিরুলের স্ত্রী মার্জিয়া খাতুন বিবি একজন সাধারণ গৃহবধূ। দম্পতির তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে সাকিবুর বড়। বাবা বাড়িতে না থাকায় সাংসারিক কাজে মাকে সহযোগিতার পাশাপাশি পড়াশোনা চালাতে হয়েছে। টিউশনের পাশাপাশি বাড়িতেও নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছে সে।সাকিবুর জানায়, ভবিষ্যতে সে একজন চিকিৎসক হতে চায়। সেই কারণে পরীক্ষা শেষ হতেই বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে দিয়েছে। মা-বাবার পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষকরা তাকে যথেষ্ট সাপোর্ট করেছেন। ছেলের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মনিরুল শেখ বলেন, ছেলে ভালো ফল করবে নিশ্চিত ছিলাম।তবে এই রেজাল্ট আমার প্রত্যাশার থেকেও বেশি। ছেলের সাফল্যে বাবা হিসেবে আমার দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে জান লড়িয়ে দেব। মা বিবি বলেন, আর্থিক কারণে ছেলেকে সেভাবে টিউশন দিতে পারিনি। তবে স্কুলের শিক্ষকরা পড়াশোনার বিষয়ে যথেষ্ট সাহায্য করেছেন। ওঁরা পাশে না দাঁড়ালে এই রেজাল্ট সম্ভব হতো না।



