Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাদনঘাটে সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন, খুশি কৃষকরা

এই প্রকল্পে এলাকার কয়েকশো বিঘে জমি সেচের সুবিধা পাবে। উপকৃত হবেন বহু কৃষক।

নাদনঘাটে সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন, খুশি কৃষকরা
  • ১৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কালনা: রাজ্য সরকারের জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দপ্তরের অর্থানুকুল্যে নাদনঘাট কিশোরীগঞ্জ ও মনমোহনপুর গ্রামে সেচ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল শুক্রবার। উদ্বোধন করেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিলীপ মল্লিক, নসর‌ৎপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মোবিন হোসেন মণ্ডল প্রমুখ। এই প্রকল্পে এলাকার কয়েকশো বিঘে জমি সেচের সুবিধা পাবে। উপকৃত হবেন বহু কৃষক।

Advertisement

কালনা মহকুমার নাদনঘাট থানার নসরৎপুর পঞ্চায়েতের কিশোরীগঞ্জ ও মনমোহনপুর ভাগীরথী নদীর ওপারে অবস্থিত। গ্রাম দু’টি স্থলপথে মহকুমা থেকে বিচ্ছিন্ন। উচ্চ বিদ্যালয়, হাটবাজার সবই নদীর এপারে সমুগড়ে। ফলে নৌকই যাতায়াতের ভরসা এই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের। বাঁশের মাচানের উপর দিয়ে হেঁটে নৌকোয় চাপতে হয়। বাসিন্দাদের স্থায়ী জেটির দাবি দীর্ঘদিনের। সেই দাবি মেনে সম্প্রতি নসরৎপুর ফেরিঘাটে স্থায়ী জেটি তৈরি হয়। কৃষি প্রধান এলাকা কিশোরীগঞ্জ ও মনমোহনপুরের চাষিদের সেচের ভরসা বৃষ্টি আর মিনি সেচ। সেচের পর্যাপ্ত জল না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন কৃষকরা। দুই বছর আগে তাঁরা ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’-তে  ফোন করে এলাকায় উন্নত সেচ ব্যবস্থার আবেদন জানান। সেই আবেদনে সারা দিয়ে রাজ্য জলসম্পদ উন্নয়ন ও অনুসন্ধান দপ্তর বৃহত্তর সেচ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। প্রকল্প ব্যয় ৮২ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা। গত বছর জানুয়ারি মাসে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। সম্প্রতি কাজ শেষ হওয়ার পর শুক্রবার প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল। খুশি এলাকার কয়েকশো কৃষক পরিবার। এলাকার কৃষক আমের আলি শেখ দিবস বৈরাগ্য বলেন, এই অঞ্চলে ঊর্বর মাটিতে ধান ভুট্টা সব্জি থেকে সব ধরনের ফসল হয়। 
এতদিন আমাদের মিনি বা আকাশের বৃষ্টির জলে সেচের চাষ করতে হতো। সঠিক সময়ে জল না মেলায় ফসলের ক্ষতি হতো। আমাদের এলাকার চার-পাঁচ শো বিঘে জমি এই সেচ প্রকল্পের আওতায় আসায় আমরা খুবই উপকৃত। এরজন্য আমরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কৃতজ্ঞ। স্বপনবাবু বলেন, কিশোরীগঞ্জ ও মনমোহনপুরে এক দশক আগেও রাস্তা বিদ্যুতের আলো পানীয় জল পর্যাপ্ত ছিল না। তৃণমূল সরকার আসার পর গ্রামে বিদ্যুৎ পানীয় জল ও রাস্তা হয়েছে। বাঁশের মাচানের ফেরিঘাট জেটি হয়েছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্র হয়েছে। প্রাথমিক স্কুল গুলির উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের প্রধান জীবন জীবিকা হল কৃষি। সেচ ব্যবস্থা ঠিকমতো না থাকায় চাষে ক্ষতির মুখে পড়ছিলেন কৃষকরা। সেচ ব্যবস্থার সমস্যার সমাধানে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে ফোনে  জানান কৃষকরা। অনুমোদন হয় ৮০ লক্ষাধিক টাকার সেচ প্রকল্প।-নিজস্ব চিত্র  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ