সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, সিতাই: বিএসএফের চোখরাঙানিতে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া সিতাইয়ের বহু গ্রামের বাসিন্দা। এমনিতেই এখানে বিগত বাম সরকারের সময়ে উন্নয়ন তেমন হয়নি। বর্তমান রাজ্য সরকারের আমলে একগুচ্ছ উন্নয়নকে সামনে রেখে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে কোচবিহার তথা রাজ্যের সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত একটি ব্লক। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে যে সমস্ত কৃষিজমি রয়েছে সেগুলিতে চাষ করতে প্রতিনিয়ত সাধারণ গ্রামবাসীদের বিএসএফের রক্তচক্ষুর সামনে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ। এখানে পাচারের সমস্যা রয়েছে। তাই বিএসএফের কড়াকড়ি প্রচণ্ড। আর এতেই সাধারণ গ্রামবাসী, যাঁদের চাষযোগ্য জমি কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে রয়েছে তাঁরা মাঝেমধ্যেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। যা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোটের অঙ্কেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে থাকা কৃষিজমি কেন্দ্র সরকার জমির মালিকদের কাছ থেকে কিনে নিক। এমন প্রস্তাব কেন্দ্র সরকারকে দিয়েছিলেন খোদ জেলার সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। কিন্তু এই বিষয়ে কোনো সদুত্তর কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি বলে তাঁর দাবি। তাই সিতাইতে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের ভোগান্তি কিন্তু এখনো কমেনি। যার প্রভাব ভোটের অঙ্কে পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও বিএসএফের কড়াকড়ির বিষয়টিকে সমর্থন করছে বিজেপি। তাদের দাবি, সীমান্তে চোরাকারবার ঠেকাতে বিএসএফ সতর্ক রয়েছে। এতে নিয়ম মেনেই সব করা হয়। সাধারণ মানুষের হয়রানির কোনো বিষয় নেই।
সিতাই-১, ২ এবং চামটার কায়েতের বাড়ি, ধুমেরখাতা, চামটা, বড়থোর প্রভৃতি এলাকা সীমান্ত লাগোয়া। সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলিতে প্রচুর মানুষের বসবাস। এঁদের অনেকেরই জমি রয়েছে কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে। সিতাই-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমান্ত লাগোয়া আরজি খামার গ্রামের বাসিন্দা সমরকুমার বর্মন। তাঁর পেশা কৃষিকাজ ও গৃহশিক্ষকতা। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা করা যুবসাথী প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছি। কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে আমাদের ১৭-১৮ বিঘা চাষের জমি আছে। সেই জমি চাষের জন্য কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে যাতায়াতে খুব সমস্যা হয়। বারবার বিএসএফ জিজ্ঞাসাবাদ করে। আমরা চাই, সরকার আমাদের জমি ক্রয় করে জমির মূল্য দিক। যদিও এসব নিয়ে বিএসএফের স্থানীয় কোনো অফিসার কোনো মন্তব্য করতে চাননি। সিতাইয়ের বাসিন্দা তথা কোচবিহারের এমপি জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া বলেন, কেন্দ্র সরকারকে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার ওপারের জমি নিয়ে নিতে বলেছিলাম। এর বিনিময়ে কৃষকদের উপযুক্ত অর্থ দিলে তাঁরা কাঁটাতারের বেড়ার এপারে কিছু করতে পারতেন। কিন্তু কেন্দ্র এই বিষয়ে কর্ণপাত করেনি। তাই দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না চাষিদের।
সিতাইয়ের বিজেপি নেতা দীপককুমার রায় বলেন, কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে যাঁদের জমি আছে তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর গেট খোলে বিএসএফ। নথি সঙ্গে থাকলে বিএসএফের নজর পড়লেও কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বিএসএফ তার কাজ করবেই। রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার প্রশ্নে বিএসএফের যা করার তা করে।