Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নজরকাড়া ফল কাঁথির পড়ুয়াদের

নজরকাড়া ফল কাঁথির পড়ুয়াদের
  • ৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: মাধ্যমিকের পর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলেও কাঁথির পড়ুয়াদের সাফল্য। মাধ্যমিকে কাঁথির মডেল ইন্সটিটিউশনের দুই ছাত্র যথাক্রমে মেধাতালিকায় চতুর্থ ও নবম স্থান অধিকার করেছিল। এবার উচ্চ মাধ্যমিকে কাঁথির কিশোরনগর শচীন্দ্র শিক্ষাসদনের ছাত্র বিপ্রদীপ জানা মেধাতালিকায় নবম স্থান অধিকার করেছেন। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৯। পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিকে এগরার দু’টি স্কুলের দুই ছাত্রীর সাফল্যে খুশির হাওয়া শহরজুড়ে। এগরার ঝাটুলাল হাইস্কুলের ছাত্রী জৈৎসী ঘোষ উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৯১নম্বর পেয়ে সপ্তম স্থান অধিকার করেছেন। পার্শ্ববর্তী এগরা স্বর্ণময়ী গালর্স হাইস্কুলের ছাত্রী বর্ণিতা হাজরাও ৪৯১নম্বর পেয়ে সপ্তম স্থান আধিকার করেছে। তিনজনই চান চিকিৎসক হতে। জৈৎসীর বাড়ি এগরা শহরের ৭নম্বর ওয়ার্ডের কসবা-এগরা এলাকায়। বাবা প্রশান্তকুমার ঘোষ পটাশপুরের পালপাড়া কলেজের অঙ্কের অধ্যাপক। মা লোপিতাদেবী সংসার সামলান। জৈৎসী বলেন, নিট দিয়েছি। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগচ্ছি। বর্ণিতার বাড়ি এগরা শহরের ৪নম্বর ওয়ার্ডের অলুঁয়া এলাকায়। বাবা মৃগাঙ্ক হাজরা শহরে জেরক্সের দোকানে কাজ করেন। আয় খুব একটা ভালো নয়। দাদা তন্ময় ফিজিক্যাল সায়েন্সে বিএড করছেন। তিনি টিউশনি পড়িয়ে বাবাকে সাহায্য করেন। মা বনশ্রীদেবীর কাঁধে গোটা সংসারের দায়িত্ব। এরকম পরিস্থিতিতে পড়াশোনা করে বর্ণিতা মেধাতালিকায় সপ্তম স্থান অধিকার করায় স্কুলের শিক্ষিকারা থেকে শুরু করে সকলেই তাঁকে বাহবা দিচ্ছেন। এর আগে মাধ্যমিকে একটুর জন্য র‌্যাঙ্ক হাতছাড়া হয়েছিল বর্ণিতার। এবার আক্ষেপটা ঘুচেছে বর্ণিতার। তিনি ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চান বলে জানালেন। ঝাটুলাল হাইস্কুলের টিচার-ইনচার্জ দেবাশিস জানা ও স্বর্ণময়ী গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা কৃষ্ণকলি ভট্টাচার্য বলেন, আমরা মেধা তালিকায় স্থানাধিকারী ছাত্রীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছি।  

Advertisement

অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেই মাধ্যমিক পরীক্ষায় সফল হয়েছেন বিপ্রদীপ। কাঁথি শহরের ২১নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি। বিপ্রদীপ কিডনির অসুখে আক্রান্ত। দিল্লি এইমস-এ চিকিৎসা চলছে। সুগারের অসুখেও আক্রান্ত তিনি। বাবা বিধানচন্দ্র জানার একটি ব্যাটারি কোম্পানির ডিলারশিপের ব্যবসা রয়েছে। মা পুতুল জানা কাঁথির নামালডিহা গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষিকা। অসুস্থতা সত্ত্বেও মনের জোরে আজ মেধাতালিকায় স্থানাধিকারী বিপ্রদীপ। পুতুলদেবী বলেন, ও যখন বেশি অসুস্থ ছিল, আমরা তাঁকে নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু ছেলের জেদের কাছে আমরা হার মেনেছি। বিপ্রদীপের লক্ষ্য চিকিৎসক হওয়া। তবে ইউপিএসসির দিকেও ঝোঁক রয়েছে। বিপ্রদীপ বলেন, ডাক্তারি নিয়ে পড়ব। নাহলে ইউপিএসসির দিকে ঝুঁকব। কিশোরনগর শচীন্দ্র শিক্ষাসদন ভালো রেজাল্টও করেছে। ১৯৮জন পরীক্ষার্থীর প্রত্যেকেই উত্তীর্ণ হয়েছেন। স্টার পেয়েছেন ৯২জন। প্রধান শিক্ষক রাধামাধব দাস বলেন, স্কুলে নিয়ম মেনে পঠনপাঠন হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ