সংবাদদাতা, বেলদা: বিজেপির মণ্ডল সভাপতির সঙ্গে মণ্ডল সহ-সভাপতির অনুগামীদের দ্বন্দ্বে ভেস্তে গেল বিজেপির এসআইআর সংক্রান্ত কর্মশালা। কর্মীদের বিক্ষোভের জেরে ফিরে যেতে হল রাজ্য নেতৃত্বকে। দাঁতন বিধানসভার মোহনপুর এলাকার ঘটনা। ঘটনায় দলীয় কর্মীদের একাংশকে দায়ী করলেন মণ্ডল সভাপতি শিউলি পাত্র। পাল্টা মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ আনলেন বিক্ষোভরত মণ্ডল সহ সভাপতি ঝাড়েশ্বর দাস। ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল এলাকায়।
মঙ্গলবার বিকেলে দাঁতন বিধানসভার মোহনপুরের অরুঁয়াতে বিজেপির দাঁতন ২ মণ্ডল কমিটির উদ্যোগে একটি কর্মসূচির আয়োজন হয়েছিল। এসআইআর নিয়ে এলাকার বুথ নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করেছিল বিজেপি। সেই বৈঠক শুরু হওয়ার আগে দলীয় কর্মীদের একাংশের বিক্ষোভের জেরে সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলা। সেই বিশৃঙ্খলায় ভেস্তে যায় কর্মসূচি। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে এসে ফিরে যেতে হয় রাজ্য কমিটির সদস্য অপরূপ গুচ্ছাইতকে। দলীয় সূত্রে খবর, সম্প্রতি গঠিত হয়েছে মণ্ডল কমিটি। দাঁতন ২ মণ্ডলে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শিউলি পাত্র। বুধবার বিকেলে তাঁরই আহ্বানে দলীয় কর্মী ও নেতৃত্বকে নিয়ে সংবর্ধনা সভা ও এসআইআর সংক্রান্ত কর্মশালা ছিল।
সভা শুরুর পূর্বে মণ্ডলের সহ-সভাপতি ঝাড়েশ্বর দাসের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীদের একাংশ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তাঁদের অভিযোগ, জেলা সভাপতি শমিত মণ্ডলের মদতে কোনও রকম আলোচনা ছাড়াই মণ্ডল কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন মণ্ডল সভাপতি দলের অন্য নেতাদের গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ঝাড়েশ্বর দাস বলেন, আমরা প্রথম থেকেই এই দলটি করে আসছি। এলাকায় আমরা নির্বাচনে লিডও দিয়েছি। কিন্তু আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমান মণ্ডল সভাপতি কমিটির অন্যান্য নেতাদের গুরুত্ব না দিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে জেলা সভাপতি বিষয়টিতে মদত দিয়ে আমাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছেন। রাজ্য হস্তক্ষেপ না করা পর্যন্ত আমরা কোনও কর্মসূচি করতে দিতে চাই না। তাই আমরা এদিন রাজ্য নেতৃত্বকে ফিরে যেতে বলেছি।
এদিকে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উড়িয়ে মণ্ডল সভাপতি শিউলি পাত্র বলেন, দলের পদ পাওয়ার পরেও নেতাদের একাংশ দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন। পদে পদে দলকে বিড়ম্বনায় ফেলছেন। বিষয়টি নিয়ে উচ্চতর নেতৃত্বকে অভিযোগ জানিয়েছি। তাঁরা বিষয়টি ব্যবস্থা নেবেন। তবে কর্মশালা না হলেও এদিন আমরা বুথ সভাপতিদের সংবর্ধনা জানিয়েছি। কর্মসূচি না করে ফিরে এলেও বিষয়টি নিয়ে কোনও রকম মন্তব্য করতে নারাজ রাজ্য কমিটির সদস্য ও বিধানসভার ইনচার্জ অপরূপ গুচ্ছাইত। বিষয়টি নিয়ে জেলা সভাপতি শমিত মণ্ডলের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফোন ও মেসেজ করেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।