সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এক্সপার্ট কমিটি গঠন করা হবে। শনিবার শিলিগুড়িতে ন্যূনতম মজুরি নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক নিস্ফলা হওয়ার পর একথা বলেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক। বাগান বন্ধের প্রবণতার বিরুদ্ধেও রাজ্য সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তিন মাস বাগান বন্ধ রাখলে কিংবা চা শ্রমিকদের বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ড সহ অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করলে বাগানের লিজ বাতিল করা হবে বলে জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
শনিবার ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডেকেছিলেন বলে জানান রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক। শিলিগুড়ি স্টেট গেস্ট হাউজে তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জিটিএ’র চেয়ারম্যান রাজেশ চৌহান, রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শান্তা ছেত্রি সহ মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। চা শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরি, বন্ধ চা বাগান এবং টি ডিরেক্টরেট নিয়ে এদিন বৈঠক করেন মন্ত্রী। কিন্তু এদিনের বৈঠকেও ন্যূনতম মজুরি নিয়ে কোনও ঐক্যমত্যে পৌঁছনো যায়নি। বৈঠকের পর একথা জানিয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করতে একটি এক্সপার্ট কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সার্ভে করে রিপোর্ট দেবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ন্যূনতম মজুরি ঠিক করবে রাজ্য সরকার। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলি।
এর আগেও ন্যূনতম মজুরি নিয়ে এক্সপার্ট কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, ন’বছর আগে একটি এক্সপার্ট কমিটি ঠিক করা হয়েছিল ন্যূনতম মজুরি ঠিক করার জন্য। ওই কমিটিতে রাজ্য সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছিলেন। কিন্তু একাধিক বৈঠক করেও ওই কমিটি কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। আবার ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে মালিক ও শ্রমিক পক্ষ কেউই নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ। এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য আবার একটি এক্সপার্ট কমিটিকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হবে।
পাশাপাশি বন্ধ চা বাগান ও লিজ বাতিলের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মূলত বোনাসের সময়ই ক্ষতির কথা বলে অনেক মালিক বাগান বন্ধ করে দেন। চা শ্রমিকদের মজুরি, পিএফ সহ অন্যান্য সুবিধা বন্ধ রাখেন। এই ধারা বন্ধ করতে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তিন মাসের বেশি বাগান ও চা শ্রমিকদের বেতন বন্ধ করলে বা পিএফ সহ অন্যান্য সুবিধা না দিলে বাগানের লিজ বাতিল করা হবে। দলসিংপাড়া, রায়মাটাং সহ ছ’টি বন্ধ চা বাগান পুনরায় চালু করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি বন্ধ চা বাগানগুলিও খোলা হবে।
চা বাগানের শ্রমিক সংগঠনের যৌথ মঞ্চর আহ্বায়ক জিয়াউল আলম বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। তবে এই সিদ্ধান্তকে কার্যকর করতে হলে সমস্ত সংগঠনকে একমত হতে হবে। আমরা চাই দ্রুত ন্যূনতম মজুরি ঠিক হোক।