চল্লিশ পেরলেই চালশে? এ যুগে চল্লিশ ছুঁয়ে বা চল্লিশোর্ধ্ব মহিলারা তা কি ভাবেন? চারপাশে তাকালে আর সে কথা কিন্তু মনে হচ্ছে না। হলিউড অভিনেত্রী কেট উইনস্লেট হোক বা বলিউডের করিনা কাপুর... সবার মুখে একটাই বার্তা। তাঁরা বলছেন, চল্লিশ মানে বয়সের ভারে অনেকটা এগিয়ে যাওয়া ঠিকই। তবে তার মানে এই নয় যে হায় হায় করার দিন এসে গেল।
বহু যুগ ধরে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ গড়েপিটে নিয়েছে মহিলাদের। বয়স বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিফলন ঘটবেই শরীরে। সেটা পুরুষদের ক্ষেত্রে যেভাবে দেখা হয়, মহিলাদের ক্ষেত্রে তার ধরন আলাদা। ‘কুড়িতেই বুড়ি’ জাতীয় প্রবাদ থেকেই এর আভাস পাওয়া যায়। একটা সময় ছিল, যখন মেয়েদের ছোট থেকেই এই ধারণার সঙ্গে বড় করে তোলা হতো। একটা বয়সের পর সৌন্দর্য না থাকলেও সেই সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য কী কী করতে হবে, তার নানা ফিরিস্তি হাজির করতেন পরিবারের সদস্যরা। যুগ বদলেছে। তার সঙ্গে দেখার ধরনও। তাই এযুগে অনেক নারী প্রশ্ন তুলছেন কেন বয়স বাড়লেও তাঁকে ‘ইয়ং’ দেখাতেই হবে?
কেট উইনস্লেট যেমন মনে করেন, বয়সের সঙ্গে মুখের রেখাকে মেনে নেওয়ার মধ্যেই রয়েছে পরিণতমনস্ক চিন্তা। কারণ এই বলিরেখা আপনাকে সবসময় মনে করাবে, কত রকম অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে আপনি গিয়েছেন। সেই সব অভিজ্ঞতা আপনাকে কতটা পূর্ণ করেছে, পরিণত করেছে। এই বলিরেখাগুলো বাস্তব, এগুলো প্রাকৃতিক। এর থেকে মুখ লুকোতে হাজার বিউটি ট্রিটমেন্ট এখন বাজারে এসেছে। কিন্তু প্রকৃতির বিরুদ্ধাচারণ করে আমরা কবেই বা বেশি দূর এগতে পেরেছি? নানা আধুনিক চিকিৎসা, স্যালোঁর পরশ আপনাকে কিছু দিন বয়সের ভাঁজ দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু যা আসার, তা তো আসবেই। আমি-আপনি না চাইলেও। তাই যা আসছে, তাকে সাদরে মেনে নিলে জীবনের স্রোতে কঠিন সাঁতার দিতে হয় না। স্রোতের টানে দিব্যি ভেসে চলা যায়।
কেট উইনস্লেট রুপোলি পর্দার অভিনেত্রী। ছবির দাবিতে তাঁর চেহারা ‘সুন্দর’ রাখাটা খুব জরুরি। তা সত্ত্বেও তিনি এমনটা ভাবতে পেরেছেন, প্রকাশ্যে বলতেও পেরেছেন। ছবির চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে বয়সের তুলনায় ইয়ং দেখানোর দরকার হলে তিনি নিশ্চয়ই মেকআপের সাহায্য নিতে রাজি হবেন। কিন্তু তা বাদে প্রকৃত চেহারা লুকোনোর তাগিদ এই যুগের অভিনেত্রীর থাকার কথা নয়। সেটুকুই মনে করিয়ে দিয়েছেন কেট। তাঁর জায়গা থেকে এমন মন্তব্য শুনতে পেলে ভরসা পান অসংখ্য সাধারণ মহিলা।
কিছু দিন আগে অনেকটা একই ধাঁচে করিনা কাপুরও স্পষ্ট করেছেন তাঁর অবস্থান। তাঁর মতে, এটা একেবারেই ব্যক্তিগত চয়েস। তাঁর নিজের মুখে বলিরেখা নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। তিনি বরং সেটা পছন্দই করেন। করিনা বলেন, ‘আমি ৪০-এ এসে অনেক বেশি খুশি। ২০-তে যেমন ছিলাম তার চেয়েও বেশি আনন্দ আমার এখন হয়। প্রাকৃতিকভাবে যেমনটা এগিয়ে যায়, তেমনটাই হবে। আমি তো বুড়ো হইনি!’
এইভাবে ভাবতে পারাটাই জরুরি। আগেকার প্রজন্মকে কেউ এই ভরসা সাহস দেয়নি। নিজেকে সব বয়সেই ভালোবেসে ভালো রাখা যায়— এই বিশ্বাস থাকলে নিজের পথচলা অনেক সহজ হয়। নিজের চেহারার কারণে আত্মবিশ্বাস ক্রমশ কমতে থাকলে সেটা নিজের দক্ষতার উপরেও ছাপ ফেলবে। তাই ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া সময়ের নিয়মে আসবে, তার জন্য কেউ থেমে যায় না। ত্বকের সার্বিক সুস্থতার দিকে খেয়াল রাখুন। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতা যে মনন গড়ে তুলছে, তাকে ঋদ্ধ করার মধ্যেই জীবনের সার্থকতা।
অন্বেষা দত্ত