Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জোট না হলেও খড়গ্রামে সিপিএমের নীচুতলার ভোট ‘সুইং’য়ের আশায় কং

রাজ্যে কংগ্রেস ও সিপিএমের জোট না হওয়ার স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে খড়গ্রাম বিধানসভা এলাকায়। উভয় দলের তরফেই আলাদাভাবে প্রচার, দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছে।

জোট না হলেও খড়গ্রামে সিপিএমের নীচুতলার ভোট ‘সুইং’য়ের আশায় কং
  • ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:০২
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: রাজ্যে কংগ্রেস ও সিপিএমের জোট না হওয়ার স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে খড়গ্রাম বিধানসভা এলাকায়। উভয় দলের তরফেই আলাদাভাবে প্রচার, দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এর ফলে খড়গ্রাম বিধানসভায় তৃণমূলের সুবিধা হবে। তবে কংগ্রেস নেতৃত্বের আশা, জোট না হলেও সিপিএমের নীচুতলার ভোট তাদের দিকে সুইং করবে। যদিও এটাকে অলীক স্বপ্ন বলেই দাবি করেছে সিপিএম।

Advertisement

১৯৭৭সালে দীনবন্ধু মাঝি খড়গ্রামের প্রথম সিপিএম বিধায়ক হয়েছিলেন। তখন থেকে ২০০৬সালের বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত এই কেন্দ্র টানা সিপিএমের দখলে ছিল। ২০০৬সালে মানবেন্দ্রনাথ সাহা সিপিএম বিধায়ক ছিলেন। তার আগে টানা চারবার সিপিএম বিধায়ক ছিলেন বিশ্বনাথ মণ্ডল। ফলে একসময় এই কেন্দ্র সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি হিসাবেই পরিচিত ছিল।
তবে ২০১১সালের নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে জয়ী হন আশিস মার্জিত। এরপর গত বিধানসভা ভোটে আশিসবাবুই তৃণমূলের প্রার্থী হন। তাঁর কাছে কার্যত পর্যুদস্ত হন কংগ্রেসের বিপত্তারণ বাগদি। বাম-কং জোটের প্রার্থী হিসাবে তিনি মাত্র ২৭ হাজার ৪২৩টি ভোট পেয়েছিলেন। তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছিলেন ৯৩২৫৫টি ভোট। এখন এলাকায় সমস্ত রাজনৈতিক দলের তরফে ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। কংগ্রেস ও সিপিএম আলাদা করে প্রচারে নেমেছে। কংগ্রেসের বুথ কমিটির সভা আয়োজন শেষ হতে চলেছে। প্রার্থীর নামের জায়গা ফাঁকা রেখে দেওয়াল লিখনও চলছে। সিপিএমের তরফে বুথ কমিটির সভার পাশাপাশি দেওয়াল লিখন ও পথসভা হচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এবার কংগ্রেস ও সিপিএমের ভোট ভাগাভাগি হওয়ায় শাসকদল সুবিধা পাবে।
কংগ্রেসের দাবি, গত কয়েকবছরে এই কেন্দ্রে সিপিএম অনেকটাই ক্ষমতা হারিয়েছে। পঞ্চায়েত ভোটেও তারা ভালো ফল করতে পারেনি। তাই ভোটে একা লড়ার মতো ক্ষমতা সিপিএমের নেই। খড়গ্রাম ব্লক কংগ্রেস সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, সিপিএম প্রার্থী দিলেও সমস্যা নেই। কারণ ওদের নীচুতলার ভোট আমাদের দিকেই সুইং করবে। আর সেটা হলেই বাজিমাত। যদিও সিপিএমের খড়গ্রাম এরিয়া কমিটির সম্পাদক ভরত ঘোষ বলেন, তৃণমূল ছাড়া অন্য কোনো প্রতিপক্ষকেই এখনও প্রচারে নামতে দেখলাম না। এখানে আমরাই লড়াইয়ের ময়দানে আছি। এবছর জোট না হওয়ায় পুরো উদ্যম নিয়ে মাঠে নেমেছি। ভোট সুইং কংগ্রেসের স্বপ্ন ছাড়া কিছু নয়। খড়গ্রাম আবার বামদুর্গে পরিণত হবে। খড়গ্রাম দক্ষিণ ব্লক তৃণমূল সভাপতি শাশ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, শুধু এখানেই নয়, রাজ্যের সর্বত্র বিরোধী দলগুলির মধ্যে গোপন বোঝাপড়া রয়েছে। তবে খড়গ্রামে তার কোনো প্রভাব পড়বে না। অন্য দলের কাছে ভোটের বহু রণকৌশল থাকলেও আমাদের পাশে মানুষ আছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ