Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিজিবি ফেরালেও ফের অসম দিয়ে পুশব্যাক ১৪ বাঙালিকে

ভারতীয় পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর ওড়িশানিবাসী ১৪ জন বাঙালিকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে দিয়েছিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিজিবি ফেরালেও ফের অসম দিয়ে পুশব্যাক ১৪ বাঙালিকে
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদাতা, কাকদ্বীপ: ভারতীয় পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর ওড়িশানিবাসী ১৪ জন বাঙালিকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে দিয়েছিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নদীয়ার গেদে সীমান্ত দিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর গভীর রাতে পুশব্যাক করা হয়েছিল ওড়িশার জগৎসিংপুর জেলার এরসামা থানার অম্বিকা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ওই পরিবারকে। গত ২৮ ডিসেম্বর চুয়াডাঙা সীমান্তে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের পর ‘ভারতীয়’দের হস্তান্তর করে দিয়েছিল বিজিবি। তাঁদের আত্মীয়-স্বজনের অভিযোগ, ওড়িশায় না পাঠিয়ে অসম সীমান্ত দিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য তাঁদের বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করে দিয়েছে বিএসএফ। এই ঘটনার পর ওই পরিবারের ১৪ জন সদস্যের মধ্যে ন’জনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা গিয়েছে। তাঁরা এখন সিলেটের একটি গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে খোঁজ নেই বাকি পাঁচজনের। তাঁরা কোথায় আছেন , কী অবস্থায়  আছেন, কোনও খবর নেই বলে দাবি আত্মীয়দের। ফলে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাঁদের। কীভাবে পরিবারের কর্তা বৃদ্ধ শেখ জব্বর সহ  বাকিরা দেশে ফিরবেন, সেটা নিয়েই এখন চিন্তিত সবাই। তবে বিএসএফ কেন পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ না নিয়ে তাঁদের ফের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিল, সেটা নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠছে। 

Advertisement

শেখ জব্বরের আত্ময়-পরিজনরা থাকেন নামখানার মৌসুনি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। তাঁরা বলছেন, গত ২৮ ডিসেম্বর দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের কাছে নিয়ে আসা হয়েছিল ১৪ জনকে। এরপর তিনটি দলে ভাগ করা হয় তাঁদের। দুটি দলে ছিলেন পাঁচজন করে এবং একটিতে রাখা হয় চারজনকে। ওই সীমান্তের তিনটি ভিন্ন জায়গা দিয়ে বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করা হয় ১৪ জনকে। ভাগ্যক্রমে পরিবারের ন’জন একত্রিত হলেও, বাকি পাঁচজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের বাকি ন’জনকে এরপরই অসমে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশ পুশব্যাক করা হয়। আদালতের নির্দেশে বীরভূমের সোনালী বিবিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছিল কেন্দ্র। তাঁর মতোই কি এই ১৪ জন হতভাগ্য ‘ভারতীয়’ দেশে ফিরতে পারবেন? এখন সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।
ওই হতভাগ্য পরিবারের প্রধান শেখ জব্বরের সম্পর্কিত এক নাতি মুক্তার শেখ বলেন, ‘দাদুর পরিবারের সবার যাবতীয় ভারতীয় নথিপত্র রয়েছে। জমির অনেক পুরানো দলিলও রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও জোর করে ওড়িশা সরকার তাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল। তাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। ন’জনের সঙ্গে যোগাযোগ হলেও, পাঁচ জনের এখনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কীভাবে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনব বুঝতে পারছি না। মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ জানাই।’ মৌসুনি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মানসী ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই পরিবারের আত্মীয়রা দীর্ঘদিন ধরে মৌসুনি দ্বীপে বসবাস করেন।  তাঁদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে একটা রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এটি ব্লক প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ