Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

চিরন্তন সাজ

পুজোর দিনে বা অন্য কোনও উৎসবে সাবেকি, ঐতিহ্যবাহী সাজ পছন্দ করেন অধিকাংশ বাঙালি মহিলা। সেই সাজ নিয়ে আবার একটুআধটু পরীক্ষানিরীক্ষাও চলে। মোটা বা চওড়া শাঁখা পলা পরার রেওয়াজ হাল ফ্যাশনে দেখা যাচ্ছে।

চিরন্তন সাজ
  • ২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

পুজোর দিনে বা অন্য কোনও উৎসবে সাবেকি, ঐতিহ্যবাহী সাজ পছন্দ করেন অধিকাংশ বাঙালি মহিলা। সেই সাজ নিয়ে আবার একটুআধটু পরীক্ষানিরীক্ষাও চলে। মোটা বা চওড়া শাঁখা পলা পরার রেওয়াজ হাল ফ্যাশনে দেখা যাচ্ছে। 

Advertisement

কীভাবে হঠাৎ এত জনপ্রিয় হল এই চওড়া শাঁখা পলা? সবাই কি এধরনের চওড়া শাঁখা-পলা ক্যারি করতে পারেন? সাবেকি সাজ চিরকালই যাঁর পছন্দ, সেই অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘ধারাবাহিক ‘আয় তবে সহচরী’-র সময় থেকেই আমার মোটা শাঁখা পলা পরার জার্নি শুরু। সেটা টিভিতে দেখেও অনেকে পরা শুরু করেছেন। এখন কুকিং শো ‘রান্নাঘর’-এও চওড়া শাঁখা পলা পরি। ভালো লাগে। আমার হাত চওড়া। আজকালকার ফ্যাশনেবল, জিম করা হাত নয়! তাই পুরনো সাবেকি মোটা শাঁখা পলা আমার হাতে বেশ মানিয়ে যায়। এমনিতে ভরাট হাত হলেই এই শাঁখা পলা ভালো লাগে। আমার অকেশনালি পরা হয়। পুজোর সময় তো অবশ্যই পরি। আমার পরতে ভালোও লাগে। বিয়ের পর কয়েকদিন পরেছি। তবে এটাও ঠিক এইরকম শাঁখা পলা সবসময় পরা যায় না, কাজের জন্য এবং সব পোশাকের সঙ্গে মানানসই হয় না বলেই পরা হয় না। শ্যুটিংয়ে প্রয়োজন হলেই পরি। আমার নিজের শাঁখা পলায় মাছের নকশা করা আছে।’
তবে চওড়া শাঁখা-পলা শুধু বিয়ের পরেই পরা যায় কি না, তা নিয়ে এখন বিতর্ক আছে। কারণ এখন অনেকেই একে ফ্যাশন অ্যাক্সেসরি হিসেবে ব্যবহার করছেন। এ ব্যাপারে কনীনিকা বলেন, ‘আমি অনেককেই চিনি যারা বিয়ের আগে শাঁখা-পলা পরেছে। তার ভালো লাগে হয়তো। তার পছন্দ অনুযায়ী সে পরছে। এটা তো আমরা বলে দিতে পারি না। শাঁখা-পলা পরলে হাতে সুন্দর লাগে বলে কেউ পরছে। একসঙ্গে অনেকগুলো শাঁখা বা একসঙ্গে অনেকগুলো পলা পরারও চল হয়েছে। ফ্যাশন তো বটেই, ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেও এটা দেখতে ভালো লাগে।’         
করোনার পর থেকেই অনেক রকম ফিউশন বা পরীক্ষানিরীক্ষা হয়েছে জুয়েলারি ঘিরে। মহিলারা একটা সময় সরু বা পাতলা শাঁখা পলাই পছন্দ করতেন। কিন্তু বাড়ি বন্দি অবস্থায় সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন রকম ছবি দেখে পছন্দটা একটু বদলেছে বলে মনে করছেন জুয়েলারি ডিজাইনার শ্রাবণী দাস। শাঁখার দাম যথেষ্ট, তাই সরু শাঁখায় সাশ্রয়ও হতো বলে মনে করা হতো, বললেন তিনি। তবে কালের ধর্মে নকশা বদলানোই দস্তুর। তাই চওড়া শাঁখা পলা আবার প্রিয় হয়ে উঠেছে এবং তার মধ্যে নানারকম নকশা জনপ্রিয় হচ্ছে। শ্রাবণী বলেন, ‘কেউ নকশায় তুলে আনছেন স্বামীর নাম, কেউ আবার মাছ, হাতি বা অন্য নকশা পছন্দ করছে রুপো বাঁধানো শাঁখা-পলায়। আর যাঁদের সোনা কেনার সামর্থ্য আছে, তাঁরা সোনাতেই ছোট ছোট মোটিফ করাচ্ছেন শাঁখা বা পলায়। মোটামুটি পছন্দ নিয়ন্ত্রণ করছে সমাজমাধ্যমে ঘুরতে থাকা ছবি, বলছেন শ্রাবণী। একজনের দেখে বাকিরা পরছেন। এমনও হচ্ছে সবাই একই ডিজাইন খুঁজছেন। অর্থাৎ বন্ধু যেটা কিনল সেটা আমারও চাই। সেই থেকে ঝোঁক আরও বেড়েছে।’
আপনিও এবার পুজোয় সাবেকি সাজে শামিল করতে পারেন চওড়া শাঁখা-পলা। হাতের গড়ন অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন চওড়া শাঁখা-পলার নকশা। 

সম্পর্কিত সংবাদ