নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পেরতে কর্মী ইপিএফ গ্রাহকদেরই হাতিয়ার করতে পারে মোদি সরকার! রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভোটের আগেই বৃদ্ধি পেতে চলেছে মাসে ইপিএফের ন্যূনতম পেনশনের পরিমাণ? আপাতত এই প্রশ্নে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, কর্মী পিএফ পেনশন গ্রাহকদের দীপাবলির উপহার হিসেবেই সম্ভবত এই সংক্রান্ত বড়সড় ঘোষণা করতে চলেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। আগামী ১১ এবং ১২ অক্টোবর দু’দিনের বিশেষ অছি পরিষদের বৈঠক ডেকেছে শ্রমমন্ত্রকের আওতাধীন কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠন (ইপিএফও)। সেই বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য সূচিতেই স্থান পেতে চলেছে মাসে ইপিএফের ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এই মুহূর্তে মাসে ইপিএফের ন্যূনতম পেনশনের পরিমাণ মাত্র এক হাজার টাকা। শ্রমমন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রের খবর, বিহার ভোটের কথা মাথায় রেখে এর পরিমাণ মাসে এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে আড়াই হাজার টাকা করা হতে পারে।
এই বিষয়কে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই ব্যাপারে ইপিএফও অছি পরিষদের সদস্য শিবপ্রসাদ তিওয়ারি বলেন, ‘একাধিকবার মাসে ইপিএফের ন্যূনতম পেনশন বাড়ানোর দাবি করা হয়েছে। আমি নিজে কেন্দ্রকে অনুরোধ করেছি যাতে, এর পরিমাণ বৃদ্ধি করে মাসে অন্তত আড়াই হাজার টাকা করা হয়। দেখা যাক, শেষমেশ সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়।’ আগামী মাসে বেঙ্গালুরুতে ইপিএফও অছি পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক হতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরেই ইপিএফের ন্যূনতম পেনশনের পরিমাণ বৃদ্ধির ব্যাপারে সরব সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি।
এর আগে সন্তোষকুমার গঙ্গওয়ার যখন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী এবং পদাধিকার বলে ইপিএফও অছি পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন, সেইসময় কর্মী পিএফের ন্যূনতম পেনশনের পরিমাণ মাসে এক হাজার থেকে বাড়িয়ে দু’হাজার টাকা করার ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়। যদিও পরবর্তী ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এমনকী শ্রম সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও একাধিকবার ইপিএফের ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধি নিয়ে সুপারিশ করলেও তাতে কর্ণপাত করেনি মোদি সরকার। এমনই অভিযোগ পিএফ পেনশন গ্রাহকদের একটি বড় অংশের। এরই পাশাপাশি জানা যাচ্ছে, আগামী মাসে বেঙ্গালুরুতে ইপিএফ অছি পরিষদের বৈঠকে প্রভিডেন্ট ফান্ডের ইউপিআই এবং এটিএম পরিষেবা চালু হওয়ার বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে। দীপাবলির আগেই পিএফের নতুন এই দু’টি পরিষেবা চালু হতে পারে।