নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে সাইবার প্রতারণার ঘটনা। এমনই অভিযোগ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার প্রাপকদের। এই পরিস্থিতিতে গ্রাহক এবং উপভোক্তাদের সাইবার প্রতারণা চক্রের হাত থেকে বাঁচাতে পদক্ষেপ করছে কেন্দ্র। বিশেষত শ্রমমন্ত্রকের আওতায় থাকা কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠন (ইপিএফও) এই ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। কর্মী পিএফ (ইপিএফ) গ্রাহকদের উদ্দেশে ভবিষ্যনিধি সংগঠন রীতিমতো সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে, কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন থেকে ইপিএফ অনলাইন পরিষেবা নিতে হলে আগে সাবধান হোন। নিজের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্মার্টফোনে যথাযথ অ্যান্টি-ভাইরাস বা অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার ব্যবহার করুন। শুধু তাই নয়, কোনও পরিস্থিতিতেই নিজের ইপিএফ পোর্টালের লগ ইন আইডি, পাসওয়ার্ড অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
গ্রাহকদের উদ্দেশে ইপিএফওর বার্তা, অনলাইন পরিষেবার জন্য তাঁরা যে সিস্টেম ব্যবহার করছেন, তাকে সবসময় আপডেটেড রাখুন। খুব সহজ-সরল পাসওয়ার্ড দেবেন না। ইপিএফ গ্রাহকদের সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে এমনই প্রচারমূলক অভিযান শুরু করেছে কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠন। ইপিএফওর মেম্বার্স পোর্টালের হোম পেজ খুললেই স্ক্রিনে ফুটে উঠছে ভবিষ্যনিধি সংগঠনের এই বিশেষ সাবধানবাণী। পাশাপাশি, নয়া ব্যবস্থা চালুর পথেও ইতিমধ্যে হাঁটতে শুরু করেছে ইপিএফও। আগে ইপিএফওর মেম্বার্স পোর্টালে ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (ইউএএন) এবং পাসওয়ার্ড দিলেই নিজের অ্যাকাউন্ট খুলতে পারতেন ইপিএফ গ্রাহকরা। কিন্তু বর্তমানে শুধুই ইউএএন এবং পাসওয়ার্ডে অ্যাকাউন্ট খোলা যাচ্ছে না। পরবর্তী ধাপে ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) আসছে সংশ্লিষ্ট ইপিএফ গ্রাহকের মোবাইলে। সেই মোবাইল নম্বর ‘ভেরিফায়েড’ হতে হবে। ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড দেওয়ার পরেই নিজের অ্যাকাউন্টের কাজকর্ম করতে পারছেন গ্রাহকরা।
ই-কেওয়াইসি আপডেটের জন্য ‘ফেস অথেনটিকেশন’ ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই চালু করেছে কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠন। সেইমতো ইপিএফ গ্রাহকদের নথিভুক্ত মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠানো হচ্ছে শ্রমমন্ত্রক এবং ভবিষ্যনিধি সংগঠনের পক্ষ থেকে। সরকারি সূত্রের ব্যাখ্যা, ফেস অথেনটিকেশনের মাধ্যমে কেওয়াইসি যাচাই করা হলে এক্ষেত্রেও সাইবার অপরাধের ঝুঁকি একধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে। কর্মী পিএফ গ্রাহকদের সাইবার প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পাবে।