নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একাধিক গালভরা ঘোষণা করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এমনকী গত ১ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত প্রকল্পকেও নতুন নাম দিয়ে স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার ভাষণে ঘোষণা করেছেন তিনি। এমনই অভিযোগ বিরোধীদের। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারি পরিসংখ্যানে ফের সংশয় তৈরি হয়েছে মোদির কর্মসংস্থান নিয়ে বিভিন্ন ঘোষণায়। কারণ দেখা যাচ্ছে, বিগত তিন বছরে সারা দেশে ইপিএফ গ্রাহকের অন্তর্ভুক্তি লাগাতার কমেছে। ১ কোটি ৩৮ লক্ষ থেকে তা কমে হয়েছে ১ কোটি ২৯ লক্ষ। সংসদে এই কথা জানিয়েছে শ্রমমন্ত্রক। শর্তসাপেক্ষে দেশের বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠান এবং তার কর্মচারীরা ইপিএফের মতো সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবার আওতাভুক্ত হন। ফলে ইপিএফে নতুন গ্রাহকের অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি কিংবা হ্রাসের রেখচিত্রই স্পষ্ট করে দেয়, কর্মসংস্থান বাড়ছে, নাকি কমছে।
ইপিএফওর (কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠন) সদস্য সংখ্যা নিয়ে লোকসভায় লিখিত প্রশ্ন করেন বিজেপির তিন সাংসদ ছত্রপালসিং গাঙ্গওয়ার, কালীচরণ সিং এবং অনিল ফিরোজিয়া। তারই লিখিত জবাবে এই সংক্রান্ত খতিয়ান পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় শ্রম রাষ্ট্রমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০২২-২৩ আর্থিক বছরে ইপিএফওতে গ্রাহক অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৩৮ লক্ষ ৫১ হাজার ৬৮৯ জন। ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে তা কমে হয় ১ কোটি ৩১ লক্ষ ৪৮ হাজার ২০৪ জন। এবং ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ইপিএফওতে গ্রাহক অন্তর্ভুক্তি আরও হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ২৯ লক্ষ ৭৮ হাজার ১৬৮ জনে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠনের এই পে-রোল ডেটা প্রকাশ করছে কেন্দ্র। এর ফলে গ্রাহক অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত খতিয়ান সামনে আসছে। পাশাপাশি লিখিত জবাবে শ্রম রাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ৮ লক্ষ ৪৮ হাজার ৬৭১ জন নতুন গ্রাহক ইপিএফওর সদস্য হয়েছেন।