নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: শহরের বিভিন্ন এলাকা দাপিয়ে বেড়ানোর পর সোমবার মাঝরাতে একেবারে জলপাইগুড়ি রাজবাড়িতে ঢুকে পড়ে দলছুট হাতি! পাঁচিল ডিঙিয়ে রাজবাড়ির উঠোনে হাতি চলে আসতেই আর ঝুঁকি নেননি বনকর্মীরা। ঘুমপাড়ানি গুলি করে হাতিটিকে কাবু করে আর্থমুভার দিয়ে ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বৈকুণ্ঠপুরের জঙ্গলে। হাতি ঢুকে পড়ায় আতঙ্কে রাতের ঘুম উধাও হয়ে যায় রাজবাড়ির সদস্যদের। মঙ্গলবার সকালেও সেই আতঙ্কের ছাপ ছিল তাঁদের চোখেমুখে।
জলপাইগুড়ি রাজ পরিবারের বধূ লিন্ডা বসু বলেন, রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ আমাদের বাড়ির সামনে মেলার মাঠ দিয়ে হাতিটি এসে পাঁচিল ডিঙিয়ে একেবারে গ্যারেজ ঘরের কাছে চলে আসে। বনদপ্তরের লোকজনের চিৎকার চেঁচামেচিতে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। প্রায় সাড়ে তিনটি পর্যন্ত জেগে কাটিয়েছি বাড়ির সবাই। তাঁর দাবি, জলপাইগুড়ি রাজবাড়িতে এর আগে কোনওদিন এভাবে হাতি ঢোকেনি। ফলে হাতিটিকে ধরতে না পারা পর্যন্ত আতঙ্কে ছিলাম।
জলপাইগুড়ি বনবিভাগের ডিএফও বিকাশ ভি বলেন, করলাভ্যালি চা বাগান থেকে হাতিটি জলপাইগুড়ি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংলগ্ন এলাকা দিয়ে জাতীয় সড়ক পেরিয়ে শহরে ঢুকে পড়ে। দীর্ঘক্ষণ আনন্দচন্দ্র কলেজের গার্লস হস্টেলের পিছনে হাতিটি ছিল। এরপর সেটি রাজবাড়ির চৌহদ্দির মধ্যে ঢুকে পড়ে। তখনই হাতিটিকে ঘুমপাড়ানি গুলি করে কাবু করে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিন সন্ধ্যায় তিনি বলেন, বৈকুণ্ঠপুরের জঙ্গলে ছাড়া হয়েছে হাতিটিকে। এখনও পর্যন্ত সেটির মুভমেন্ট কম। বনকর্মীরা হাতিটির গতিবিধির উপর নজর রাখছেন।
সোমবার মাঝরাতে দলছুট সাব অ্যাডাল্ট হাতিটি যখন জলপাইগুড়ি রাজবাড়িতে ঢুকে পড়ে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশকর্মী অঙ্কুর দাস। তিনি বলেন, আনন্দচন্দ্র কলেজের গার্লস হস্টেলের পিছনে দীর্ঘক্ষণ ঘাঁটি গেড়ে থাকার পর হাতিটি গোশালা মোড়ের কাছে শীতলা মন্দিরের দিকে যায়। তারপর করলা নদীর ধার ধরে রাজবাড়ি নীচমাঠ এলাকায় চলে আসে। সেখানে একটি ঘর ভাঙে। এরপর সেগুনবাগান হয়ে রাজবাড়ির গ্যারেজের পিছনে চলে আসে হাতিটি। তখনই তাকে ঘুমপাড়ানি গুলি করে বাগে আনার চেষ্টা করেন বনকর্মীরা। হাতিটিকে উদ্ধার করতে প্রায় ভোর সাড়ে তিনটে বেজে যায়।
বৈকুণ্ঠপুরের এডিএফও দীপেন তামাং জানিয়েছেন, দিনভর হাতিটিকে তাড়িয়ে জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা হলেও তা সম্ভব হয়নি। জলপাইগুড়ি বনবিভাগের পাশাপাশি বেলাকোবা, রামসাই স্কোয়াডের কর্মীরা প্রথম থেকেই ছিলেন। পরে গোরুমারা এবং দার্জিলিংয়ের মহানন্দা ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডের কর্মীরাও আসেন। পুলিশ ছিল। শহরে হাতি ঢুকলেও বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় হাফ ছেড়ে বেঁচেছে বনদপ্তর। • নিজস্ব চিত্র।